ইরানে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালিতে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার এক দিনের মধ্যে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টার দিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় দুপুর ১২টা থেকে এই অভিযান শুরু হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড […]
ছবি: সংগৃহীত
ইরানে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালিতে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার এক দিনের মধ্যে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টার দিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় দুপুর ১২টা থেকে এই অভিযান শুরু হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে আইআরজিসির সাম্প্রতিক ধারাবাহিক সামরিক তৎপরতার জবাব হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এই পাল্টা অভিযান চালাচ্ছে।
এর আগে সোমবার গভীর রাতে হরমুজ প্রণালিতে সৌদি আরবের দুটি বিশাল তেলবাহী সুপারট্যাংকারকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। জাহাজ দুটিতে সব মিলিয়ে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ছিল।
এর এক দিন আগে, রোববার জর্ডানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে আইআরজিসি। তবে মার্কিন বাহিনীর সক্রিয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই প্রতিহত করা হয়।
এর আগে গত শনিবার রাতে হরমুজ প্রণালির লারাক দ্বীপে আইআরজিসির একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ স্থাপনা ধ্বংস করে মার্কিন বাহিনী।
ওই হামলার মধ্য দিয়ে এক মাসেরও বেশি সময় বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবার সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হয়।
এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা এবং পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নতুন করে অস্থির হয়ে উঠেছে।
চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধের পরিবর্তে সীমিত মাত্রার সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত সোমবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি দাবি করেন, ইরান তাদের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সক্ষমতা হারিয়েছে এবং দেশটির নজরদারি ব্যবস্থার বড় অংশও ধ্বংস হয়েছে।
তবে একইসঙ্গে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এবার ওয়াশিংটনের অভিযান হবে ‘খুবই সীমিত’ মাত্রার।