Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

পরিবেশ
৩:৪৩ পিএম, ২৩ মে ২০২৬

ভ্যাপসা গরমে দিশাহারা দেশবাসী, বৃষ্টির আশায় মসজিদে মসজিদে দোয়া

টানা তাপপ্রবাহ আর অসহনীয় ভ্যাপসা গরমে রাজধানীসহ সারাদেশে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাপমাত্রা খুব বেশি না বাড়লেও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে গরমের অনুভূতি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। ভ্যাপসা আবহাওয়ায় ঘর-বাইরে কোথাও স্বস্তি মিলছে না। বৃষ্টির আশায় শুক্রবার দেশের বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ দোয়া করেছেন মুসল্লিরা। কেরানীগঞ্জের শহীদনগর মসজিদসহ বিভিন্ন এলাকায় জুমার নামাজের পর বৃষ্টির জন্য মোনাজাত করা […]

ভ্যাপসা গরমে দিশাহারা দেশবাসী, বৃষ্টির আশায় মসজিদে মসজিদে দোয়া

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

টানা তাপপ্রবাহ আর অসহনীয় ভ্যাপসা গরমে রাজধানীসহ সারাদেশে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাপমাত্রা খুব বেশি না বাড়লেও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে গরমের অনুভূতি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। ভ্যাপসা আবহাওয়ায় ঘর-বাইরে কোথাও স্বস্তি মিলছে না। বৃষ্টির আশায় শুক্রবার দেশের বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ দোয়া করেছেন মুসল্লিরা।

কেরানীগঞ্জের শহীদনগর মসজিদসহ বিভিন্ন এলাকায় জুমার নামাজের পর বৃষ্টির জন্য মোনাজাত করা হয়। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে ওয়াক্তিয়া নামাজের পরও বৃষ্টির জন্য দোয়া করা হয়েছে।

শনিবার রাজধানীতে বৃষ্টি না হওয়ায় গরমের তীব্রতা আরও বেড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। টানা কয়েকদিনের গরমে অনেকটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন নগরবাসী।

আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, শনিবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেশি ছিল। শুক্রবার ১৩ জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ গেলেও শনিবার তা বেড়ে ২০ জেলায় ছড়িয়ে পড়ে।

আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক বলেন, জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত দেশজুড়ে তাপপ্রবাহ ও ভ্যাপসা গরম অব্যাহত থাকতে পারে। তিনি জানান, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে গেছে। ফলে ঘাম সহজে শুকাচ্ছে না এবং গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সিলেটে সর্বোচ্চ ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। তবে রাজধানীসহ দেশের বেশিরভাগ এলাকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কম ছিল।

শনিবার যশোরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

রাজধানীর গুলিস্তান, শাহবাগ, কারওয়ান বাজার ও ফার্মগেট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। গণপরিবহনেও ভোগান্তি ছিল চরমে। অনেককে হাতপাখা ও রুমাল দিয়ে ঘাম মুছতে দেখা গেছে।

কারওয়ান বাজারের রিকশাচালক এখলাস উদ্দিন বলেন, ‘কোনো বাতাস নাই। রিকশা চালাইলে গা দিয়া টপটপ কইরা পানি ঝরছে, শরীর এক্কেবারে ছাইড়া দেয়। একটু পরপর পানি খাইয়াও তৃষ্ণা মেটে না।’

চরম গরমে রাজধানীতে ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা, হিট স্ট্রোক ও সর্দি-কাশির মতো রোগ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। আইসিডিডিআর,বি ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।

চিকিৎসকদের পরামর্শ, এই সময়ে সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলতে হবে এবং প্রচুর পানি, স্যালাইন ও ডাবের পানি পান করতে হবে। পাশাপাশি রাস্তার খোলা খাবার ও শরবত এড়িয়ে চলারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, কোথাও কোথাও বৃষ্টি হলেও ভ্যাপসা গরম থেকে পুরোপুরি স্বস্তি পেতে আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। ভারী ও টানা বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত এই গুমোট পরিস্থিতি কাটার সম্ভাবনা কম।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ