সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

ফিচার
২:৩০ পিএম, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের ‘মেঘ চুরি’ করছে যুক্তরাষ্ট্র— দাবিটির পেছনে কী আছে?

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দাবি করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র নাকি দীর্ঘদিন ধরে “মেঘ চুরি” করে মধ্যপ্রাচ্যে খরা তৈরি করছিল, কিন্তু যুদ্ধের কারণে সেই কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এখন আবার বৃষ্টি হচ্ছে। সম্প্রতি ইরাকের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল-খাইকানি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র বিমান ব্যবহার […]

মধ্যপ্রাচ্যের ‘মেঘ চুরি’ করছে যুক্তরাষ্ট্র— দাবিটির পেছনে কী আছে?

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দাবি করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র নাকি দীর্ঘদিন ধরে “মেঘ চুরি” করে মধ্যপ্রাচ্যে খরা তৈরি করছিল, কিন্তু যুদ্ধের কারণে সেই কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এখন আবার বৃষ্টি হচ্ছে।

সম্প্রতি ইরাকের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল-খাইকানি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র বিমান ব্যবহার করে মেঘ “ভেঙে ফেলা” ও “চুরি” করার চেষ্টা করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় ইরাকে আবার বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। তবে তিনি এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের হাতে এখনো এমন কোনো প্রযুক্তি নেই যার মাধ্যমে “মেঘ চুরি” করা সম্ভব। ইরাকের আবহাওয়া অধিদপ্তরের মুখপাত্র আমের আল-জাবিরি এই দাবিকে “অবৈজ্ঞানিক ও অযৌক্তিক” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর অনেক আগেই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল যে ২০২৬ সালে ইরাকে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব দাবির সঙ্গে “ক্লাউড সিডিং” বা কৃত্রিমভাবে বৃষ্টি বাড়ানোর প্রযুক্তির বিষয়টিও জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ক্লাউড সিডিং হলো এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে বিদ্যমান মেঘে সিলভার আয়োডাইডের মতো ক্ষুদ্র কণা ছড়িয়ে বৃষ্টিপাত বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তির প্রভাব খুব সীমিত। এটি সর্বোচ্চ প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত বাড়াতে সহায়তা করতে পারে, তবে কোনো অঞ্চল থেকে মেঘ সরিয়ে নেওয়া বা আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করার মতো ক্ষমতা এর নেই।

আবুধাবির খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডায়ানা ফ্রান্সিস বলেন, ক্লাউড সিডিং কেবল বিদ্যমান মেঘকে সামান্য প্রভাবিত করে। এটি পুরো আবহাওয়া ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।

ওয়াইওমিং বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া বিজ্ঞানী ড. জেফ ফ্রেঞ্চও বলেন, এক জায়গায় ক্লাউড সিডিং করলে পাশের এলাকায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃষ্টি কমে যায়— এমন কোনো শক্ত প্রমাণ গবেষণায় পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘ খরা, তীব্র তাপপ্রবাহ এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাত বেড়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই অনিশ্চয়তার সুযোগে “মেঘ চুরি” ধরনের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব সহজেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে তাপমাত্রা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় অনেক দ্রুত বাড়ছে। ফলে পানি সংকট, খরা এবং হঠাৎ বন্যার মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তব সমস্যার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বোঝার পরিবর্তে অনেক মানুষ সহজ ব্যাখ্যার দিকে ঝুঁকে পড়ছেন, আর সেখান থেকেই এ ধরনের ষড়যন্ত্র তত্ত্বের বিস্তার ঘটছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ