সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

ফিচার
৪:২৪ অপরাহ্ন, ১৫ আগস্ট ২০২৬

জ্যোতিষীদের আপত্তিতে যেভাবে মাঝরাতে স্বাধীন হয়েছিল ভারত

১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতার ঘোষণা কার্যকর হলেও এর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছিল আগের রাতেই ভারতের স্বাধীনতার জন্য ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন শেষ ভাইসরয় লর্ড লুই মাউন্টব্যাটেন। কিন্তু তারিখ ঘোষণার পরই ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের জ্যোতিষীরা আপত্তি তোলেন। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ১৫ আগস্ট ছিল ভারতের জন্য অশুভ একটি দিন। তারিখ পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় […]

জ্যোতিষীদের আপত্তিতে যেভাবে মাঝরাতে স্বাধীন হয়েছিল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতার ঘোষণা কার্যকর হলেও এর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছিল আগের রাতেই

ভারতের স্বাধীনতার জন্য ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন শেষ ভাইসরয় লর্ড লুই মাউন্টব্যাটেন। কিন্তু তারিখ ঘোষণার পরই ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের জ্যোতিষীরা আপত্তি তোলেন। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ১৫ আগস্ট ছিল ভারতের জন্য অশুভ একটি দিন। তারিখ পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় শেষ পর্যন্ত এমন একটি ব্যবস্থা করা হয়, যাতে নির্ধারিত তারিখও ঠিক থাকে আবার জ্যোতিষীদের আপত্তিকেও পাশ কাটানো যায়। সেই কারণেই স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় ১৪ আগস্ট রাতে এবং ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পন্ন হয় ১৫ আগস্টের প্রথম প্রহরে।

ব্রিটিশ শাসনের অবসান এবং ভারতের স্বাধীনতার সময়সূচি চূড়ান্ত করার দায়িত্বে ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন। প্রথমে ১৯৪৭ সালের জুনে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা থাকলেও পরে তিনি তারিখ এগিয়ে ১৫ আগস্ট নির্ধারণ করেন।

ল্যারি কলিন্স ও ডমিনিক লাপিয়েরের বিখ্যাত বই ‘ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট’-এ বলা হয়েছে, ১৫ আগস্ট তারিখটির সঙ্গে মাউন্টব্যাটেনের ব্যক্তিগত একটি সম্পর্কও ছিল। ঠিক দুই বছর আগে, ১৯৪৫ সালের এই দিনে জাপান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মসমর্পণ করেছিল। মাউন্টব্যাটেনের কাছে দিনটি এশিয়ায় নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনার প্রতীক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

তারিখ নিয়ে কেন আপত্তি তুলেছিলেন জ্যোতিষীরা

মাউন্টব্যাটেন স্বাধীনতার তারিখ ঘোষণা করার পর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের জ্যোতিষীরা রাশিচক্র ও গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান বিশ্লেষণ শুরু করেন। বারাণসী, দক্ষিণ ভারত ও কলকাতার জ্যোতিষীদের একটি অংশের দাবি ছিল, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারতের জন্য শুভ নয়।

ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ তার ‘ইন্ডিয়া আফটার গান্ধী’ বইয়ে উল্লেখ করেছেন, জ্যোতিষশাস্ত্রের কিছু ব্যাখ্যায় শুক্রবারকে অশুভ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। আর ১৫ আগস্ট ১৯৪৭ ছিল শুক্রবার।

কলকাতার জ্যোতিষী স্বামী মদনানন্দ সূর্য, চন্দ্র, গ্রহ এবং ২৭টি নক্ষত্রের অবস্থান বিশ্লেষণ করে আরও ভয়াবহ পরিণতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। তার মতে, ওই দিনে ভারতের রাশি হবে ‘মকর’, যা দেশভাগ ও বিচ্ছিন্নতার প্রতীক। একই সঙ্গে শনি ও রাহুর অবস্থান নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি মাউন্টব্যাটেনকে চিঠি লিখে নির্ধারিত দিনে ভারতকে স্বাধীন না করার অনুরোধও করেছিলেন। তার আশঙ্কা ছিল, অশুভ সময়ে স্বাধীনতা দেওয়া হলে দেশটিতে বন্যা, খরা, দুর্ভিক্ষ ও গণহত্যার মতো বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

বদলানো গেল না তারিখ, বদলে গেল সময়

ততক্ষণে ১৫ আগস্টের তারিখ প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়ে গেছে। একই সঙ্গে দেশভাগ ও ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতিও এগিয়ে যাচ্ছিল। ফলে নতুন করে স্বাধীনতার তারিখ পরিবর্তন করা বাস্তবে সম্ভব ছিল না।

জ্যোতিষীদের পরামর্শ অনুযায়ী ১৪ আগস্টের রাতকে তুলনামূলকভাবে অনুকূল সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এরপর একটি অভিনব সমাধান বের করা হয়—১৫ আগস্টের তারিখ অপরিবর্তিত রেখে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হবে ১৪ আগস্ট রাতে।

এভাবেই ১৪ আগস্ট রাতে ভারতের গণপরিষদের বিশেষ অধিবেশন বসে। অধিবেশন গড়ায় মধ্যরাত পর্যন্ত। ১৫ আগস্টের প্রথম মুহূর্তে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা অর্জন করে।

সেই ঐতিহাসিক মধ্যরাতেই জওহরলাল নেহরু তার বিখ্যাত ‘ট্রিস্ট উইথ ডেস্টিনি’ ভাষণ দেন। মধ্যরাতের সেই মুহূর্তকে তিনি ভারতের স্বাধীন জীবনের সূচনা হিসেবে তুলে ধরেন।

অর্থাৎ, স্বাধীনতার সরকারি তারিখ ছিল ১৫ আগস্ট ১৯৪৭, কিন্তু জ্যোতিষীদের আপত্তির কারণে এর আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়েছিল আগের রাতেই। এভাবেই ইতিহাসের পাতায় ভারতের স্বাধীনতার সঙ্গে জড়িয়ে যায় একটি অদ্ভুত জ্যোতিষ-রাজনৈতিক সমঝোতার গল্প।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ