সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
১২:৪১ অপরাহ্ন, ২ নভেম্বর ২০২৬

মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে কি ক্ষমতা ছাড়তে হবে ট্রাম্পকে?

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন বা মিডটার্ম ইলেকশন। এই নির্বাচনের ফলের ওপর নির্ভর করছে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকান পার্টি ক্ষমতাসীন দল হিসেবে কংগ্রেসের দুই কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা অন্তত একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে চাইছে। নির্বাচনে রিপাবলিকানরা […]

মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে কি ক্ষমতা ছাড়তে হবে ট্রাম্পকে?

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন বা মিডটার্ম ইলেকশন। এই নির্বাচনের ফলের ওপর নির্ভর করছে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকান পার্টি ক্ষমতাসীন দল হিসেবে কংগ্রেসের দুই কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা অন্তত একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে চাইছে।

নির্বাচনে রিপাবলিকানরা পরাজিত হলে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে কি না, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের পরাজয় মানেই প্রেসিডেন্টকে পদ ছাড়তে হবে, বিষয়টি এমন নয়। যুক্তরাষ্ট্রে এই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে সরাসরি ভোট হয় না। বরং কংগ্রেসের সদস্য এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন।

তবে নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ কিংবা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে আইন প্রণয়ন ও বিভিন্ন নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধা তৈরি হতে পারে।

কী এই মধ্যবর্তী নির্বাচন?

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ চার বছর। এই মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে, অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব নেওয়ার দুই বছর পর যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, সেটিই মধ্যবর্তী নির্বাচন বা মিডটার্ম ইলেকশন।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইট হাউসে ফেরেন। তাঁর চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে এবার এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসের দুই কক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের সদস্য নির্বাচিত হন। কংগ্রেসের প্রধান দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে জাতীয় পর্যায়ে প্রযোজ্য ফেডারেল আইন তৈরি ও পাস করা। নির্বাচনের ফলের ওপর নির্ভর করে কোন রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাবে এবং প্রেসিডেন্ট তাঁর পরিকল্পনা কতটা সহজে বাস্তবায়ন করতে পারবেন।

এ ছাড়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলকে অনেক সময় প্রেসিডেন্টের কর্মকাণ্ডের প্রতি ভোটারদের সন্তুষ্টি বা অসন্তুষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিমাপক হিসেবেও দেখা হয়।

কারা নির্বাচিত হবেন?

এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব ৪৩৫টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিনিধি পরিষদ কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ। এর সদস্যদের মেয়াদ দুই বছর। সাধারণত এই কক্ষেই নতুন আইন প্রস্তাব করা ও তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

অন্যদিকে, কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সিনেটরদের মেয়াদ ছয় বছর। প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া প্রস্তাবিত আইন অনুমোদন বা আটকে দেওয়ার ক্ষেত্রে সিনেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরাও নির্বাচিত হবেন। এর মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া ও মিশিগানের গভর্নর নির্বাচন বিশেষভাবে আলোচিত হতে পারে।

নির্বাচনে কোন বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ?

এবারের নির্বাচনে ভোটারদের কাছে অর্থনীতি অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে। জ্বালানি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বাসস্থান ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় নিয়ে অনেক মার্কিন নাগরিক উদ্বিগ্ন।

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি এখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধের প্রভাবও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ট্রাম্পের বাণিজ্য শুল্কনীতিও মার্কিন নাগরিকদের পণ্যমূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে।

অভিবাসনও নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। রিপাবলিকানদের দাবি, ট্রাম্প ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া একটি বড় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছেন। তিনি সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছেন এবং অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছেন। তবে এসব অভিযান নিয়ে বিতর্কও রয়েছে।

এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্ব পেয়েছে। দুই দলের জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকদের অনেকে এআই নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে ট্রাম্প প্রযুক্তিটির উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়নের বিরোধিতা করেছেন।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে?

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারব্যবস্থার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের একটি হলো কংগ্রেস। অন্য দুটি হলো প্রেসিডেন্সি ও বিচার বিভাগ। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট, দুই কক্ষই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে প্রতিনিধি পরিষদে দলটির সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই সীমিত। সেখানে রিপাবলিকানদের ২১৮টি আসন রয়েছে, যা কক্ষটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সংখ্যার সমান। এ ছাড়া একজন স্বতন্ত্র সদস্যও তাদের পক্ষে ভোট দেন।

সিনেটে রিপাবলিকানদের আসনসংখ্যা ৫৩। সেখানে ভাইস প্রেসিডেন্টের ভোটের মাধ্যমে সমতা ভাঙার সুযোগ থাকায় ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ৫১টি আসন প্রয়োজন হবে।

তবে এবারের নির্বাচনে সব আসন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেই। ফলে কোন কোন অঙ্গরাজ্যে প্রতিযোগিতা হচ্ছে, সেসব আসনে কে জয়ী হচ্ছেন এবং বর্তমান দলীয় অবস্থান কী, তার ওপর সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ভর করবে।

কে জিততে পারে?

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাধারণত ভোটাররা ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দলের বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেন। অতীতের নির্বাচনগুলোতেও প্রেসিডেন্টের দলের জন্য এমন প্রবণতা দেখা গেছে।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জরিপ সংস্থা সিলভার বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন ৫০ শতাংশের কিছু বেশি ছিল। তবে অক্টোবরের শুরুতে তা কমে প্রায় ৩৭ শতাংশে নেমে আসে। একই সময়ে তাঁর কর্মকাণ্ডের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন ৬১ শতাংশ উত্তরদাতা।

তবে নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় থাকা সব আসনের পরিস্থিতি এক রকম নয়। কিছু আসনে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। আবার বেশ কয়েকটি আসনে দুই দলের প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের বিশ্লেষণে সিনেটের ১০টি এবং প্রতিনিধি পরিষদের ৪২টি আসন বিশেষভাবে নজরদারিতে রাখার কথা বলা হয়েছে। এসব প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে আইওয়া ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের সিনেট নির্বাচন এবং অ্যারিজোনা ও ওহাইওর প্রতিনিধি পরিষদের আসন রয়েছে।

এবারের নির্বাচন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ নিয়ে দুই দলের বিরোধের কারণে। রিপাবলিকানরা কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থানে রাখতে নির্বাচনী এলাকার মানচিত্র পরিবর্তনের চেষ্টা করেছে। পরে ডেমোক্র্যাটরাও একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে।

ডেমোক্র্যাটরা জিতলে ট্রাম্পের কী হবে?

ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ কিংবা সিনেটের যেকোনো একটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলে কংগ্রেসে ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠবে।

প্রেসিডেন্টের অভ্যন্তরীণ নীতির অনেক পরিকল্পনা কংগ্রেসের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। বিরোধী দল কোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে এসব পরিকল্পনা আটকে দিতে বা পরিবর্তন করতে পারে। ফলে ট্রাম্পকে নিজের দলের বাইরে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গেও সমঝোতা করতে হতে পারে।

তবে কংগ্রেসের বাইরে প্রেসিডেন্টের হাতে থাকা নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে ট্রাম্প কিছু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে পারেন। অর্থাৎ কংগ্রেসে বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও প্রেসিডেন্টের সব ক্ষমতা বন্ধ হয়ে যায় না।

ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত

ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের কোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ড তদন্ত করার সুযোগ পাবেন।

এসব তদন্তে দুর্নীতির অভিযোগ, হোয়াইট হাউসের নতুন বলরুম নির্মাণ প্রকল্প এবং অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিইর (ICE) কার্যক্রমের মতো বিষয় খতিয়ে দেখা হতে পারে।

কংগ্রেসের কমিটিগুলো সরকারি কার্যক্রমের ওপর নজরদারি করতে পারে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য শুনতে পারে। এ ধরনের তদন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে।

অভিশংসন নিয়ে আলোচনা

ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ট্রাম্পকে অভিশংসন বা ইমপিচ করার বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। অভিশংসন হলো কংগ্রেসে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনার একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। এটি ফৌজদারি আদালতের বিচার নয়; বরং রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া।

তবে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেই ট্রাম্পকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া যাবে না। অভিশংসন প্রক্রিয়ার পর সিনেটে বিচার হয় এবং সেখানে দোষী সাব্যস্ত করার জন্য উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন।

অতএব, মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয় নিজে থেকে প্রেসিডেন্টের পদ হারানোর কারণ নয়। অভিশংসনের মতো আলাদা সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ছাড়া ট্রাম্প তাঁর নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

২০২৮ সালের নির্বাচন নিয়ে কী হবে?

মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের নাম ব্যালটে থাকে না। অর্থাৎ ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে মার্কিন ভোটাররা ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট পদে পুনর্নির্বাচিত বা অপসারণ করার জন্য ভোট দেবেন না। তাঁরা কংগ্রেসের সদস্য এবং অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।

তবে ট্রাম্প রিপাবলিকানদের প্রতি সমর্থন জানাতে ভোটারদের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ভোটাররা যেন রিপাবলিকান প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার মাধ্যমে তাঁর কর্মকাণ্ডের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন।

নির্বাচনের ফল যেদিকেই যাক, রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা তা ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র কোন পথে এগোচ্ছে, সে বিষয়ে ভোটারদের মনোভাবের প্রতিফলন হিসেবে ব্যাখ্যা করতে পারেন।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন না। ফলে ট্রাম্প তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে। একইভাবে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা বাড়বে।

সব মিলিয়ে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা পরাজিত হলেও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়তে হবে না। তবে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের অন্তত একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলে তাঁর বাকি মেয়াদে আইন প্রণয়ন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: বিবিসি

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ