Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

খেলাধুলা
৩:৪২ পিএম, ২৫ জুন ২০২৬

মহাকাশে পৌঁছাল বিশ্বকাপের বল, শূন্য মাধ্যাকর্ষণে চালানো হলো বিশেষ পরীক্ষা

ফুটবল বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল ‘ট্রাইওন্ডা’ এবার পৃথিবীর গণ্ডি পেরিয়ে পৌঁছে গেছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে। সেখানে অবস্থানরত নভোচারীরা বলটি ব্যবহার করে শূন্য মাধ্যাকর্ষণ পরিবেশে একাধিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন। মহাকাশ গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল বলের ভারসাম্য, ভরকেন্দ্র এবং উড্ডয়নের সময় এর গতিপথ কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তা আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা। বিশেষ করে […]

মহাকাশে পৌঁছাল বিশ্বকাপের বল, শূন্য মাধ্যাকর্ষণে চালানো হলো বিশেষ পরীক্ষা

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

ফুটবল বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল ‘ট্রাইওন্ডা’ এবার পৃথিবীর গণ্ডি পেরিয়ে পৌঁছে গেছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে। সেখানে অবস্থানরত নভোচারীরা বলটি ব্যবহার করে শূন্য মাধ্যাকর্ষণ পরিবেশে একাধিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন।

মহাকাশ গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল বলের ভারসাম্য, ভরকেন্দ্র এবং উড্ডয়নের সময় এর গতিপথ কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তা আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা। বিশেষ করে বলের ওজনের বণ্টন এবং অভ্যন্তরীণ গঠনের কারণে মাঠে খেলার সময় যে আচরণ দেখা যায়, তার পেছনের বৈজ্ঞানিক কারণ অনুসন্ধানই ছিল গবেষণার প্রধান লক্ষ্য।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি ফুটবলের ভরকেন্দ্রে সামান্য অসামঞ্জস্য থাকলেও সেটি বাতাসে অস্বাভাবিকভাবে বাঁক নিতে পারে কিংবা গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। অনেক সময় খেলোয়াড়দের নেওয়া শট প্রত্যাশিত দিক থেকে সরে যাওয়ার পেছনেও এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মহাকাশের মাইক্রোগ্র্যাভিটি পরিবেশ এমন সূক্ষ্ম পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের জন্য আদর্শ বলে মনে করা হয়।

গবেষণার সময় নভোচারীরা নিখুঁত ভারসাম্যপূর্ণ বল এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ভারসাম্য পরিবর্তন করা বলের মধ্যে আচরণগত পার্থক্যও বিশ্লেষণ করেন। পাশাপাশি বলের অভ্যন্তরে স্থাপিত প্রযুক্তিগত যন্ত্রাংশ মাঠে ব্যবহারের সময় কোনো নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে কি না, তাও পরীক্ষা করে দেখা হয়।

ফিফার তথ্য অনুযায়ী, ‘ট্রাইওন্ডা’ নামটি স্প্যানিশ শব্দ থেকে নেওয়া হয়েছে, যার অর্থ তিনটি তরঙ্গ। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো—এই তিন দেশের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় সেই ঐক্যের প্রতীক হিসেবেই বলটির এমন নামকরণ করা হয়েছে।

বলটির নকশায় ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের সেলাই ও বহিরাবরণ বাতাসে এর স্থিতিশীলতা বাড়াতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে বৃষ্টিভেজা বা প্রতিকূল আবহাওয়াতেও খেলোয়াড়দের বল নিয়ন্ত্রণ সহজ করার জন্য এর বাইরের অংশে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

ট্রাইওন্ডার সবচেয়ে আধুনিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অন্যতম হলো এর ভেতরে সংযুক্ত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গতিসংবেদী চিপ। এই প্রযুক্তি প্রতি সেকেন্ডে শত শতবার বলের অবস্থান ও গতির তথ্য সংগ্রহ করে ভিডিও সহকারী রেফারি ব্যবস্থার কাছে পাঠাতে সক্ষম। ফলে অফসাইড কিংবা বলের অবস্থানসংক্রান্ত জটিল সিদ্ধান্ত দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নেওয়া সম্ভব হয়।

বিজ্ঞানী ও ক্রীড়া প্রযুক্তিবিদদের মতে, মহাকাশে পরিচালিত এই গবেষণা ভবিষ্যতে আরও উন্নত ও নির্ভুল ফুটবল তৈরিতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে খেলাধুলার সরঞ্জাম উন্নয়নে মহাকাশ গবেষণার ব্যবহার নতুন সম্ভাবনারও দ্বার খুলে দিচ্ছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ