২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপানির্ধারণী রোমাঞ্চকর ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে ট্রফি ধরে রাখার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে আর্জেন্টিনার। তবে এই ব্যর্থতার পরও জাতীয় দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি কিংবা অধিনায়ক লিওনেল মেসির প্রতি দেশটির সমর্থকদের আস্থায় চিড় ধরেনি। সম্প্রতি আর্জেন্টিনায় পরিচালিত এক জাতীয় জরিপে দেখা গেছে, সমর্থকদের বড় একটি অংশ এই দুই কাণ্ডারির ওপর পূর্ণ আস্থা রাখলেও […]
ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপানির্ধারণী রোমাঞ্চকর ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে ট্রফি ধরে রাখার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে আর্জেন্টিনার। তবে এই ব্যর্থতার পরও জাতীয় দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি কিংবা অধিনায়ক লিওনেল মেসির প্রতি দেশটির সমর্থকদের আস্থায় চিড় ধরেনি। সম্প্রতি আর্জেন্টিনায় পরিচালিত এক জাতীয় জরিপে দেখা গেছে, সমর্থকদের বড় একটি অংশ এই দুই কাণ্ডারির ওপর পূর্ণ আস্থা রাখলেও দলের পরাজয়ের নেপথ্যে ফুটবলীয় লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরের নানা বিতর্কিত বিষয় ও ‘ষড়যন্ত্র’ কাজ করেছে বলে বিশ্বাস করে।
আর্জেন্টিনার স্বনামধন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিয়াকোব্বে কনসালতোরেস বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যে ২০ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত দেশজুড়ে এই গবেষণাটি পরিচালনা করে। মোবাইলভিত্তিক এই জরিপে ১,২০০ জন উত্তরদাতা অংশ নেন, যার ত্রুটির সীমা (Margin of Error) ছিল ৩ শতাংশ।
জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, বিশ্বকাপ শিরোপা হাতছাড়া হলেও কোচ লিওনেল স্কালোনির ওপর আর্জেন্টাইনদের অটল আস্থা বজায় রয়েছে:
ফাইনাল ম্যাচে স্পেনের কাছে পরাজয়ের কারণ নিয়ে সমর্থকদের উত্তরের বিশ্লেষণ বেশ চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ করেছে:
সার্বিকভাবে, জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (প্রায় ৩৪%) আর্জেন্টাইন বিশ্বাস করেন, ফাইনাল হারের নেপথ্যে কেবল মাঠের খেলা নয়, মাঠের বাইরের অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলোও প্রভাব ফেলেছে।
জরিপের উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, শিরোপা হারালেও বিশ্বমঞ্চে পুরো টুর্নামেন্টে জাতীয় দলের আচরণগত পারফরম্যান্সে ৭৮.৮ শতাংশ এবং অন-ফিল্ড ফুটবলীয় নৈপুণ্যে ৭৪.৭ শতাংশ আর্জেন্টাইন ইতিবাচক মূল্যায়ন করেছেন।
মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষকদের মতে, কাতার বিশ্বকাপ জয় এবং বিগত বছরগুলোতে স্কালোনি-মেসি জুটি সমর্থকদের মনে যে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা ও গভীর আবেগের ভিত তৈরি করেছিল, ফাইনালের একটি মাত্র হার সেই বিশ্বাসের স্তম্ভ ভেঙে ফেলতে পারেনি। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে এবং চলাকালীনও সমর্থকদের অর্ধেকের বেশি মানুষ ট্রফি ধরে রাখার বিষয়ে দৃঢ় আশাবাদী ছিলেন। ফলে হারের ধাক্কা সামলাতে সমাজের একটি বড় অংশ ফুটবলীয় বিশ্লেষণের বাইরে গিয়ে মাঠের বাইরের ঘটনায় সান্ত্বনা ও পরাজয়ের উত্তর খুঁজছে।