সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
২:৫০ অপরাহ্ন, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মারা গেলেন মার্কিন নারীবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ গ্লোরিয়া স্টেইনেম

যুক্তরাষ্ট্রের নারী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ, সাংবাদিক ও লেখক গ্লোরিয়া স্টেইনেম মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। বুধবার নিউইয়র্ক শহরে নিজের বাড়িতে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে মৃত্যুর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নিউইয়র্কে সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন স্টেইনেম। পরে তিনি ‘মিস’ (এমএস) ম্যাগাজিনের […]

মারা গেলেন মার্কিন নারীবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ গ্লোরিয়া স্টেইনেম

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রের নারী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ, সাংবাদিক ও লেখক গ্লোরিয়া স্টেইনেম মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

বুধবার নিউইয়র্ক শহরে নিজের বাড়িতে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে মৃত্যুর বিষয়টি জানানো হয়েছে।

নিউইয়র্কে সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন স্টেইনেম। পরে তিনি ‘মিস’ (এমএস) ম্যাগাজিনের সহপ্রতিষ্ঠাতা হন। ১৯৭০-এর দশকে নারীর প্রজনন অধিকারসহ বিভিন্ন নারী অধিকার ইস্যুতে তার সক্রিয় ভূমিকা তাকে যুক্তরাষ্ট্রের নারীবাদী আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখে পরিণত করে।

মাত্র ২২ বছর বয়সে লন্ডনে অবৈধভাবে গর্ভপাত করিয়েছিলেন স্টেইনেম। ১৯৭৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ‘রো বনাম ওয়েড’ মামলায় গর্ভপাতের সাংবিধানিক অধিকার স্বীকৃতি দিলে তিনি সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানান। প্রায় পাঁচ দশক পর ২০২২ সালে সেই রায় বাতিল হওয়ার ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেন তিনি।

নারীর সমঅধিকার ও সমান বেতনের পাশাপাশি সমলিঙ্গের বিয়ের বৈধতা, মৃত্যুদণ্ড এবং নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতির বিরুদ্ধেও দীর্ঘদিন সোচ্চার ছিলেন স্টেইনেম।

১৯৩৪ সালের ২৫ মার্চ ওহাইও অঙ্গরাজ্যের টোলিডো শহরে জন্ম তার। শৈশবের সময়টা সহজ ছিল না। ১২ বছর বয়স পর্যন্ত নিয়মিত স্কুলে যেতে পারেননি তিনি। ১৯৫০-এর দশকের শেষ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে গবেষণা বৃত্তি নিয়ে ভারতে যান। সেখানে গ্রামীণ নারীদের সরকারি নীতির বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলনে সংগঠকদের সহায়তা করেন। ওই সময় থেকেই তৃণমূলভিত্তিক আন্দোলনের প্রতি তার আগ্রহ আরও গভীর হয়।

১৯৬০-এর দশকের শুরুতে নিউইয়র্কে ফিরে ফ্রিল্যান্স লেখক হিসেবে কাজ শুরু করেন স্টেইনেম। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে দ্রুত পরিচিতি পান। পরে ‘নিউইয়র্ক ম্যাগাজিন’-এর কলামিস্ট হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘মিস’ ম্যাগাজিন।

নারী অধিকার আন্দোলনে দীর্ঘ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৩ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম’ প্রদান করেন।

স্টেইনেমের মৃত্যুতে লেখক, নারীবাদী কর্মীসহ বিভিন্ন অঙ্গনের মানুষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। অভিনেতা ক্রিশ্চিয়ান বেলের সৎমা মেঘান মার্কল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিজের বন্ধু ও পরামর্শদাতা হিসেবে স্মরণ করেন।

সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন স্টেইনেমকে নারীর সমতার আন্দোলনের অন্যতম প্রধান স্থপতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, গ্লোরিয়া ছিলেন গভীরভাবে আশাবাদী একজন মানুষ।

সূত্র: বিবিসি

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ