যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম কার্যকর হয়েছে। বিশেষ করে সাক্ষাৎকার, আবেদন করার স্থান এবং ভিসা ফি নিয়ে পরিবর্তিত নির্দেশনার কারণে আবেদনকারীদের আগের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে বর্তমান নিয়ম জেনে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন, ব্যবসা, চিকিৎসা ও বিভিন্ন প্রয়োজনে B-1, B-2 কিংবা B-1/B-2 ভিসার […]
প্রতীকী ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম কার্যকর হয়েছে। বিশেষ করে সাক্ষাৎকার, আবেদন করার স্থান এবং ভিসা ফি নিয়ে পরিবর্তিত নির্দেশনার কারণে আবেদনকারীদের আগের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে বর্তমান নিয়ম জেনে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন, ব্যবসা, চিকিৎসা ও বিভিন্ন প্রয়োজনে B-1, B-2 কিংবা B-1/B-2 ভিসার চাহিদা বেশি। এসব ভিসার আবেদন করার ক্ষেত্রে বর্তমানে মূল আবেদন ফি ১৮৫ ডলার।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই ফি ফেরতযোগ্য নয়। অন্যদিকে কাজ বা নির্দিষ্ট পেশাগত কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে ফি আলাদা। ফলে আবেদন করার আগে ভিসার ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত ফি যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে অধিকাংশ আবেদনকারীর জন্য সাক্ষাৎকার এখন গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আগের তুলনায় সাক্ষাৎকার ছাড়া আবেদন করার সুযোগ সীমিত করা হয়েছে।
তবে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকার মওকুফ হতে পারে। বিশেষ করে কিছু ভিসা নবায়নকারী আবেদনকারী নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে এ সুবিধা পেতে পারেন। পূর্ণ মেয়াদের B-1, B-2 বা B-1/B-2 ভিসা নবায়নের ক্ষেত্রে আগের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ১২ মাসের মধ্যে আবেদনসহ কয়েকটি শর্ত প্রযোজ্য রয়েছে।
তবে কোনো আবেদনকারী এসব শর্ত পূরণ করলেও সাক্ষাৎকার থেকে চূড়ান্তভাবে ছাড় পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রয়োজন মনে করলে কনস্যুলার কর্মকর্তা যেকোনো আবেদনকারীকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডেকে পাঠাতে পারেন।
ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে কোন দেশে আবেদন করা হচ্ছে, সেটিও এখন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সাধারণভাবে আবেদনকারীদের নিজেদের নাগরিকত্বের দেশ অথবা বৈধ বসবাসের দেশ থেকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে।
শুধু অপেক্ষার সময় কম বা দ্রুত সাক্ষাৎকার পাওয়া যাচ্ছে বলে অন্য কোনো দেশে গিয়ে আবেদন করলে বাড়তি জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ওই দেশে আবেদনকারীর বৈধ বসবাসের বিষয়টি প্রমাণ করতে হতে পারে।
বাংলাদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে তাই সাধারণভাবে বাংলাদেশ থেকেই ভিসার আবেদন ও সাক্ষাৎকারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই স্বাভাবিক পদ্ধতি।
বাংলাদেশি নাগরিকদের B-1, B-2 এবং B-1/B-2 ভিসার ক্ষেত্রে বর্তমানে আলাদা রেসিপ্রোসিটি বা ভিসা ইস্যুয়েন্স ফি নেই।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের রেসিপ্রোসিটি তালিকা অনুযায়ী, এসব ভিসা বর্তমানে একবার প্রবেশের জন্য তিন মাসের মেয়াদে দেওয়া হচ্ছে। তবে ভিসার বৈধতা ও প্রবেশের অনুমতি এক বিষয় নয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় কতদিন অবস্থান করা যাবে, সেই সিদ্ধান্ত মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের কর্মকর্তারা নেন।
কিছু নির্দিষ্ট মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার দ্রুত সাক্ষাৎকারের পরীক্ষামূলক ব্যবস্থাও চালু হয়েছে। যোগ্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার ফি দিয়ে সাক্ষাৎকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট দ্রুত পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।
তবে এই সুবিধা সব দেশে বা সব দূতাবাসে প্রযোজ্য নয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করলেই ভিসা দ্রুত অনুমোদন হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তাও নেই। এটি মূলত সাক্ষাৎকারের তারিখ এগিয়ে আনার সুযোগ।
ভিসা আবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি হলো সঠিক তথ্য দেওয়া। আবেদনকারীর ভ্রমণের উদ্দেশ্য, যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময়কাল, ভ্রমণের ব্যয় বহনের সক্ষমতা এবং নির্ধারিত সময় শেষে দেশে ফেরার বিষয়গুলো আবেদন ও সাক্ষাৎকারের সময় সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা জরুরি।
DS-160 ফরমে ভুল বা অসত্য তথ্য দিলে আবেদন প্রক্রিয়ায় গুরুতর সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই অন্যের পরামর্শ বা পুরোনো কোনো ফরমের তথ্য কপি না করে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর নিজের বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী দেওয়া উচিত।
ভিসা আবেদনের সঙ্গে আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখালেই ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। একজন আবেদনকারীর পুরো পরিস্থিতি বিবেচনা করেই কনস্যুলার কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত নেন।
বিশেষ করে পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভিসার ক্ষেত্রে কেন যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান, সেখানে কী করবেন এবং সফর শেষে দেশে ফিরে আসার যৌক্তিক কারণ কী, এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বর্তমান নিয়ম বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনকারীদের জন্য কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। B-1/B-2 ভিসার সাধারণ আবেদন ফি ১৮৫ ডলার। অধিকাংশ আবেদনকারীর সাক্ষাৎকারের প্রয়োজন হতে পারে। আবার শুধু দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্টের আশায় তৃতীয় কোনো দেশে গিয়ে আবেদন করাও সবসময় সুবিধাজনক নয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ভিসা আবেদন করার আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাসের স্থানীয় নিয়ম দেখে নেওয়া। কারণ ফি, সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা ও আবেদন প্রক্রিয়ার কিছু বিষয় সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।
ভিসা আবেদন ফি পরিশোধ করলেই ভিসা পাওয়ার অধিকার তৈরি হয় না। আবেদন যাচাই, সাক্ষাৎকার এবং সংশ্লিষ্ট আইনি শর্ত পূরণের পরই ভিসা দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।