সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

USCIS
১:৫৩ পিএম, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পেতে নতুন শর্ত, এবার বাবা-মায়ের নথিও যাচাই করবে সরকার

যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলেই নাগরিকত্ব—দীর্ঘদিনের এই প্রচলিত ব্যবস্থায় নতুন করে কড়াকড়ির পথে হাঁটছে ট্রাম্প প্রশাসন। এবার দেশটিতে জন্ম নেওয়া শিশুর পাসপোর্টের আবেদনেও বাবা-মায়ের নাগরিকত্ব কিংবা বৈধ অভিবাসন অবস্থার প্রমাণ চাওয়ার প্রস্তাব করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন এই উদ্যোগ কার্যকর হলে, শুধু শিশুর সঙ্গে বাবা-মায়ের সম্পর্কের প্রমাণ দিলেই হবে না; তাদের নিজেদের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন বৈধতার […]

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পেতে নতুন শর্ত, এবার বাবা-মায়ের নথিও যাচাই করবে সরকার

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলেই নাগরিকত্ব—দীর্ঘদিনের এই প্রচলিত ব্যবস্থায় নতুন করে কড়াকড়ির পথে হাঁটছে ট্রাম্প প্রশাসন। এবার দেশটিতে জন্ম নেওয়া শিশুর পাসপোর্টের আবেদনেও বাবা-মায়ের নাগরিকত্ব কিংবা বৈধ অভিবাসন অবস্থার প্রমাণ চাওয়ার প্রস্তাব করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

নতুন এই উদ্যোগ কার্যকর হলে, শুধু শিশুর সঙ্গে বাবা-মায়ের সম্পর্কের প্রমাণ দিলেই হবে না; তাদের নিজেদের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন বৈধতার নথিও জমা দিতে হতে পারে।

পাসপোর্টের আবেদনেই আসছে বড় পরিবর্তন

বর্তমান নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কোনো শিশুর পাসপোর্টের আবেদন করতে গেলে বাবা-মা বা আইনি অভিভাবকদের মূলত সন্তানের সঙ্গে সম্পর্কের প্রমাণ এবং সরকার অনুমোদিত ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র দেখাতে হয়।

বাবা-মায়ের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন অবস্থার নথি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

তবে প্রস্তাবিত নতুন নিয়মে এই জায়গাতেই পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছে। নতুন বিধি কার্যকর হলে বাবা-মাকে নিজেদের নাগরিকত্ব বা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসের প্রমাণ দিতে হবে।

মার্কিন নাগরিকদের ক্ষেত্রে বৈধ পাসপোর্ট বা জন্মসনদের মতো নথি চাওয়া হতে পারে। আর অভিবাসীদের ক্ষেত্রে আই-৯৪ ফরম কিংবা বৈধ স্থায়ী বসবাসের কার্ড, অর্থাৎ গ্রিন কার্ড দেখাতে হতে পারে।

কেন এমন পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের?

এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার দীর্ঘদিনের অবস্থান।

ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য হলো তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ ঠেকানো। অর্থাৎ, শুধু সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে কেউ যেন যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তানের জন্মের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে না পারে, সেটিই এই নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য।

গত ৬ আগস্ট ট্রাম্প এ বিষয়ে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। সেই আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই পররাষ্ট্র দপ্তর নতুন খসড়া নির্দেশিকা তৈরি করেছে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন নাগরিকত্বের অর্থ ও মর্যাদা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাসপোর্ট দেওয়ার প্রক্রিয়ায় নতুন নিয়ম যুক্ত করার উদ্দেশ্য হলো সংশ্লিষ্ট মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা নিশ্চিত করা।

শিশুটি নাগরিকত্বের যোগ্য কি না, যাচাই করবে সরকার

খসড়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নতুন নিয়মের আওতায় কোনো শিশু পড়ছে কি না, তা নির্ধারণের সময় বাবা-মায়ের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য বিবেচনা করা হবে।

অর্থাৎ, শিশুর পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়াতেই সরকার বাবা-মায়ের অবস্থান যাচাই করার সুযোগ পাবে।

প্রস্তাবিত নিয়মে সব বাবা-মা বা আইনি অভিভাবকের কাছ থেকেই সংশ্লিষ্ট নথি চাওয়া হতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুর নাগরিকত্বের বিষয়টি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ট্রাম্পের আগের উদ্যোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের এটি প্রথম উদ্যোগ নয়। এর আগেও একই লক্ষ্য নিয়ে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন তিনি।

সেই আদেশে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুর ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্বের সুযোগ সীমিত করা হবে। বিশেষ করে, বাবা-মায়ের অন্তত একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারী হিসেবে স্থায়ীভাবে বসবাসের বৈধ অনুমতি রাখেন—এমন শর্তের কথা বলা হয়েছিল।

তবে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। শেষ পর্যন্ত ৬-৩ ভোটের সিদ্ধান্তে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের ওই আদেশকে বেআইনি বলে রায় দেন।

বিচারকদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ মনে করেন, ওই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

নতুন প্রস্তাব নিয়ে নজর এখন আদালত ও অভিবাসীদের

নতুন প্রস্তাবটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়ায় বাবা-মায়ের নথি যাচাইয়ের বিষয়টি বাধ্যতামূলক হয়ে উঠতে পারে।

ফলে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের প্রভাব এবার সরাসরি পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়াতেও পড়তে পারে। তবে প্রস্তাবিত এই নিয়ম বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে এবং এর বিরুদ্ধে নতুন কোনো আইনি চ্যালেঞ্জ আসে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ