যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসার জন্য ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের অতিরিক্ত ফি আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবিত এই ফি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে দেশটির শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলো। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের (ডিএইচএস) কাছে দেওয়া আনুষ্ঠানিক মতামতে টেকনেট এই প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির সদস্যদের মধ্যে অ্যাপল, অ্যামাজন, অ্যালফাবেট, […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসার জন্য ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের অতিরিক্ত ফি আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবিত এই ফি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে দেশটির শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলো।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের (ডিএইচএস) কাছে দেওয়া আনুষ্ঠানিক মতামতে টেকনেট এই প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির সদস্যদের মধ্যে অ্যাপল, অ্যামাজন, অ্যালফাবেট, মেটা, ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
টেকনেটের বক্তব্য, এই পরিমাণ অতিরিক্ত ফি যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর জন্য উচ্চ দক্ষতার বিদেশি কর্মী নিয়োগে বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করবে। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতের ছোট প্রতিষ্ঠান ও স্টার্টআপগুলো এতে বেশি সমস্যায় পড়তে পারে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
গত আগস্টে ডিএইচএস প্রস্তাবিত নতুন ফি প্রকাশ করে। এতে নির্দিষ্ট এইচ-১বি আবেদনের ক্ষেত্রে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য নির্ধারিত ২০ হাজার ভিসার আওতাভুক্ত আবেদনও এর মধ্যে রাখা হয়েছে।
ডিএইচএসের হিসাবে, বছরে প্রায় ৮৫ হাজার আবেদনকে ভিত্তি করে এই ফি থেকে প্রায় ৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আসতে পারে। তবে এই অর্থ সাধারণ এইচ-১বি আবেদন ফি এবং আলাদাভাবে আরোপিত ১ লাখ ডলারের অর্থপ্রদানের শর্ত থেকে পৃথক।
টেকনেট বলছে, বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আর্থিক বাধা তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সমস্যায় পড়তে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)সহ দ্রুত বিকাশমান প্রযুক্তি খাতে আন্তর্জাতিক মেধাবীদের আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।
এদিকে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার মতো এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার ঠেকাতে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এরই অংশ হিসেবে ১৮ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন। এতে এইচ-১বি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি একই ধরনের কোনো মার্কিন কর্মীকে ছাঁটাই করেছে কি না বা এমন পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এইচ-১বি সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর শীর্ষ আইটি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানগুলোর এইচ-১বি নিবন্ধন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
অন্যদিকে, এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেনসেন হুয়াংও মার্কিন অভিবাসন নীতির কঠোরতার প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেছেন। তার মতে, কঠোর নীতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দক্ষ গবেষক ও প্রকৌশলী আকর্ষণের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
ডিএইচএসের প্রস্তাবিত এই ফি নিয়ে জনসাধারণের মতামত দেওয়ার সময়সীমা ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। এখন জমা পড়া মতামত পর্যালোচনা করে প্রস্তাবটির বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।