যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও টেনেসিতে পৃথক দুটি গুলির ঘটনায় একই দিনে প্রাণ হারিয়েছেন দুই বাংলাদেশি প্রবাসী। রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে ৪৪ বছর বয়সী ইউসুফ রাজু এবং টেনেসির বেলস শহরে ৩৮ বছর বয়সী মহসিন রানা নিহত হন। নিউইয়র্কের ঘটনায় আরও এক বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও টেনেসিতে পৃথক দুটি গুলির ঘটনায় একই দিনে প্রাণ হারিয়েছেন দুই বাংলাদেশি প্রবাসী। রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে ৪৪ বছর বয়সী ইউসুফ রাজু এবং টেনেসির বেলস শহরে ৩৮ বছর বয়সী মহসিন রানা নিহত হন। নিউইয়র্কের ঘটনায় আরও এক বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকায় ৮৪২ রকঅ্যাওয়ে অ্যাভিনিউয়ের আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিজ্জা রেস্তোরাঁয় রোববার ভোরে গুলির ঘটনা ঘটে। সেখানে কর্মরত ছিলেন বাংলাদেশি ইউসুফ রাজু। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজুর মাথায় গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ওয়ান ব্রুকলিন হেলথ-ব্রুকডেল ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় ৩৯ বছর বয়সী রাসেল নামে আরেক বাংলাদেশি পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
হামলার আগে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির এক নেতার ভাষ্য, এক ক্রেতা খাবারের বিল পরিশোধ না করে রেস্তোরাঁ থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে রাজু ও রাসেল তাকে থামান। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি অস্ত্র বের করে গুলি চালান বলে দাবি করা হয়েছে। তবে রেস্তোরাঁর মালিকের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি জানান, দুই কর্মীর সঙ্গে ওই ব্যক্তির আগে থেকে কোনো বিরোধ ছিল বলে তিনি জানেন না। নিউইয়র্ক পুলিশ এখনো হামলার কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি এবং কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্যও প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশি কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে, রাজুর বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার কংশনগর এলাকায়। প্রায় তিন বছর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান। তার স্ত্রী ও তিন সন্তান বাংলাদেশে রয়েছেন।
অন্যদিকে, একই ভোররাতে টেনেসির বেলস শহরের ৫০৫৪ হাইওয়ে ৪১২ সাউথে অবস্থিত এক্সন সাফারি কর্নার মার্কেটের কনভেনিয়েন্স স্টোরে সশস্ত্র ডাকাতির সময় গুলিতে নিহত হন ৩৮ বছর বয়সী মহসিন রানা। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এক বন্দুকধারী দোকানে ঢুকে ডাকাতির সময় মহসিনকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে এক ক্রেতা ক্যাশ কাউন্টারের কাছে তাকে পড়ে থাকতে দেখে ৯১১-এ ফোন করেন। পুলিশ ও জরুরি সেবার সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও পরে তার মৃত্যু হয়।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্দুকধারী প্রথমে দোকানের ক্যাশে থাকা টাকা দাবি করেন। মহসিন কোনো প্রতিরোধ না করে টাকা তুলে দেন। এরপর সন্দেহভাজন ব্যক্তি সিগারেট চাইলে মহসিন তার নির্দেশ অনুযায়ী তা দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায় ওই বন্দুকধারী। তবে ঘটনার পুরো বিবরণ ও উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত এখনো চলছে।
ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া সন্দেহভাজনকে পরে আটক করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তদন্তে টেনেসি ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, ক্রকেট কাউন্টি শেরিফের অফিস, বেলস পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা সংস্থা যুক্ত রয়েছে।
প্রায় সাত বছর আগে বাংলাদেশের ঢাকার সাভার থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যান মহসিন রানা। বাংলাদেশে তার স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছেন। তাদের একজনের বয়স ১২ বছর এবং অন্যজনের ৫ বছর বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন।
একই দিনে দুই অঙ্গরাজ্যে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রেস্টুরেন্ট, গ্যাস স্টেশন ও কনভেনিয়েন্স স্টোরের মতো কর্মস্থলে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করা প্রবাসীদের নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। তবে নিউইয়র্ক ও টেনেসির দুটি ঘটনা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত—এমন কোনো তথ্য এখনো তদন্তে পাওয়া যায়নি।
নিউইয়র্কে রাজুর মৃত্যুর ঘটনায় এনওয়াইপিডি এবং টেনেসিতে মহসিন রানার মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পৃথকভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্ত এগোলে দুই ঘটনায় হামলার কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।