যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৬ বছর পর একই দিনে তিনটি অঙ্গরাজ্যে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ওকলাহোমা, টেনেসি ও আলাবামায় পৃথকভাবে তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড বিষাক্ত ইনজেকশন বা লেথাল ইনজেকশনের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়। ২০১০ সালের পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রে একই দিনে তিনটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রথম ঘটনা। তিনজনের মধ্যে ছিলেন ওকলাহোমার কার্লোস কুয়েস্তা-রদ্রিগেজ, টেনেসির অ্যান্থনি ড্যারেল […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৬ বছর পর একই দিনে তিনটি অঙ্গরাজ্যে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ওকলাহোমা, টেনেসি ও আলাবামায় পৃথকভাবে তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড বিষাক্ত ইনজেকশন বা লেথাল ইনজেকশনের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়। ২০১০ সালের পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রে একই দিনে তিনটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রথম ঘটনা।
তিনজনের মধ্যে ছিলেন ওকলাহোমার কার্লোস কুয়েস্তা-রদ্রিগেজ, টেনেসির অ্যান্থনি ড্যারেল হাইনস এবং আলাবামার জেরেমি উইলিয়ামস। তিনটি মৃত্যুদণ্ড একই দিনে কার্যকর হওয়াটি মূলত আলাদা অঙ্গরাজ্যের পৃথক সময়সূচির ফল; তবে ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সাম্প্রতিক বৃদ্ধিকেও সামনে এনেছে।
ওকলাহোমায় ৭০ বছর বয়সী কার্লোস কুয়েস্তা-রদ্রিগেজের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ২০০৩ সালে নিজের সঙ্গী অলিম্পিয়া ফিশারকে হত্যার দায়ে তিনি মৃত্যুদণ্ড পেয়েছিলেন।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে কুয়েস্তা-রদ্রিগেজ তার অপরাধের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি ক্ষমা বা সাজা কমানোর আবেদনও চাননি। মৃত্যুর আগে কারাগারে তার আচরণ ও বক্তব্যে অপরাধের জন্য অনুতাপের বিষয়টি উঠে আসে।
ওকলাহোমা প্যারোল ও পার্ডন বোর্ড এর আগে তার সাজা কমানোর আবেদন অনুমোদনের সুপারিশ করেনি। তার আইনজীবীরা কঠিন শৈশব, মস্তিষ্কে ক্ষতি এবং মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার বিষয়টি তুলে ধরে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে প্যারোলে মুক্তির সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন করেছিলেন। তবে কুয়েস্তা-রদ্রিগেজ নিজেই ক্ষমার আবেদন না করার কথা জানিয়েছিলেন।
এরপর টেনেসিতে ৬৬ বছর বয়সী অ্যান্থনি ড্যারেল হাইনসের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ১৯৮৫ সালে মোটেলকর্মী ক্যাথরিন জিন জেনকিন্সকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে তিনি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন।
হাইনসের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত ছিল, কারণ কয়েক মাস আগে টেনেসিতে আরেক বন্দির লেথাল ইনজেকশন কার্যকর করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। চিকিৎসাকর্মীরা নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় শিরায় প্রবেশের ব্যবস্থা করতে না পারায় সেই মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করতে হয়েছিল। এই ঘটনার পর হাইনসের আইনজীবীরা তার মৃত্যুদণ্ডের পদ্ধতি নিয়েও আপত্তি তুলেছিলেন।
মৃত্যুর আগে হাইনসকে শেষ বক্তব্য দিতে বলা হলে তিনি প্রথমে তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরে ছেলেকে উদ্দেশ করে তিনি তাকে শুভেচ্ছা জানাতে বলেন। তার ছেলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিন পর মাত্র কয়েক দিন আগে তাদের পুনরায় যোগাযোগ হয়েছিল।
দিনের শেষ মৃত্যুদণ্ডটি কার্যকর করা হয় আলাবামায়। ৪২ বছর বয়সী জেরেমি উইলিয়ামসকে ২০২১ সালে পাঁচ বছর বয়সী কামারি হল্যান্ডকে অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
২০২৪ সালে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর উইলিয়ামস নিজেই দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পক্ষে অবস্থান নেন এবং পরবর্তী আপিলের বেশির ভাগ সুযোগ ছেড়ে দেন। ফলে সাধারণ মৃত্যুদণ্ডের মামলার তুলনায় অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে তার সাজা কার্যকর করা হয়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, কামারি হল্যান্ডকে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে জর্জিয়ার কলম্বাস থেকে অপহরণ করা হয়। পরে আলাবামার ফিনিক্স সিটির একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মামলায় শিশুটিকে যৌন নির্যাতন ও হত্যার ঘটনাসংক্রান্ত ভিডিও প্রমাণও আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
উইলিয়ামসের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময়সীমা আলাবামার গভর্নর কে আইভি ১৩ আগস্ট থেকে ১৪ আগস্ট ভোর পর্যন্ত নির্ধারণ করেছিলেন। আলাবামা সুপ্রিম কোর্টও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ খুলে দিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে একই দিনে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার সর্বশেষ ঘটনা ঘটেছিল ২০১০ সালের ৭ জানুয়ারি। সেদিন লুইজিয়ানা, ওহাইও ও টেক্সাসে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।
এরপর ২০১৮ সালেও একই দিনে তিনটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত একটি মৃত্যুদণ্ড স্থগিত হয়ে যায় এবং আরেকটি অঙ্গরাজ্যে শিরায় ইনজেকশন দেওয়ার সমস্যার কারণে নির্ধারিত কার্যক্রম এগোয়নি।
চলতি বছরের আগেও জুলাইয়ে ফ্লোরিডায় একই দিনে দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। এটি ছিল অঙ্গরাজ্যটিতে ছয় দশকেরও বেশি সময় পর একই দিনে দুই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা আবারও বাড়ছে। ২০২৫ সালে দেশটির ১১টি অঙ্গরাজ্যে মোট ৪৭টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, যা ২০০৯ সালের পর সর্বোচ্চ। ২০২৬ সালেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে; ১৩ আগস্টের তিনটি ঘটনা মিলিয়ে এ বছর মোট সংখ্যা ২২-এ পৌঁছেছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে।
তবে একই দিনে তিনটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়াকে বিশেষজ্ঞরা মূলত পৃথক অঙ্গরাজ্যের সময়সূচির কাকতালীয় মিল হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের অল্প কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থার সক্রিয় ব্যবহারের প্রবণতাকেও স্পষ্ট করেছে।