নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্রে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ২ হাজার ৪৬৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে, যা গত ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। চলতি বছরের আট মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই আক্রান্তের সংখ্যা ২০২৫ সালের পুরো বছরের সংক্রমণকে ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) ৬ আগস্ট পর্যন্ত […]
নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্রে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ২ হাজার ৪৬৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে, যা গত ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। চলতি বছরের আট মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই আক্রান্তের সংখ্যা ২০২৫ সালের পুরো বছরের সংক্রমণকে ছাড়িয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) ৬ আগস্ট পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে মোট ২ হাজার ২৮৯টি নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছিল। অথচ ২০২৬ সালের ৬ আগস্টের মধ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৪৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
সিডিসির হিসাবে, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭টি জুরিসডিকশনে হাম শনাক্ত হয়েছে। এখানে ৫০টি অঙ্গরাজ্যের পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটি ও ওয়াশিংটন ডিসিকে পৃথক জুরিসডিকশন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে আক্রান্ত অঙ্গরাজ্যের সংখ্যা নিয়ে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও সংক্রমণের বিস্তৃতি যে বড় আকার ধারণ করেছে, তা সিডিসির তথ্যেই স্পষ্ট।
এ বছর এখন পর্যন্ত ৩৮টি পৃথক হাম প্রাদুর্ভাব শনাক্ত করেছে সিডিসি। এসব প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত মোট আক্রান্তের ৯৪ শতাংশ। অর্থাৎ বিচ্ছিন্নভাবে রোগী শনাক্ত হওয়ার বদলে নির্দিষ্ট এলাকাগুলোতে গুচ্ছ আকারে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে।
এমন পরিস্থিতিতেই যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ শিশু নতুন শিক্ষাবর্ষে স্কুলে ফিরছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, শ্রেণিকক্ষসহ বিভিন্ন ইনডোর পরিবেশে দীর্ঘ সময় কাছাকাছি থাকার কারণে টিকা না নেওয়া শিশুদের মধ্যে হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
হামের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগের অন্যতম কারণ যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলপড়ুয়া শিশুদের মধ্যে এমএমআর টিকা গ্রহণের হার কমে যাওয়া।
সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের এমএমআর টিকা গ্রহণের হার ছিল ৯৫ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে তা কমে ৯২ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
ওই শিক্ষাবর্ষে আনুমানিক ২ লাখ ৮৬ হাজার কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থী হাম থেকে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ছাড়াই স্কুলে ছিল।
সিডিসি জানিয়েছে, হামসহ অত্যন্ত সংক্রামক রোগের বিস্তার ঠেকাতে একটি কমিউনিটিতে সাধারণত ৯৫ শতাংশের বেশি মানুষের টিকার সুরক্ষা থাকা প্রয়োজন। জাতীয় পর্যায়ে গড় হার এর নিচে নেমে যাওয়ার পাশাপাশি কিছু এলাকায় টিকা গ্রহণের হার আরও কম। ফলে এসব অঞ্চলে সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
উটাহ অঙ্গরাজ্যেও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। অঙ্গরাজ্যটির স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সরাসরি স্কুলে যাওয়া কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের প্রায় ১২ শতাংশের এমএমআর টিকার ক্ষেত্রে ছাড় ছিল অথবা টিকা নেওয়ার প্রয়োজনীয় নথি পাওয়া যায়নি।
উটাহতে চিকিৎসাগত কারণের পাশাপাশি ব্যক্তিগত বা ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতেও স্কুলের বাধ্যতামূলক টিকা থেকে ছাড় নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো নির্দিষ্ট কমিউনিটিতে টিকা গ্রহণের হার খুব কমে গেলে একজন আক্রান্ত শিশুও বড় ধরনের সংক্রমণের সূত্রপাত করতে পারে।
হাম বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে সংক্রামক রোগগুলোর একটি। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তি কোনো জায়গা ছেড়ে যাওয়ার পরও কিছু সময় সেখানে ভাইরাসের উপস্থিতি থাকতে পারে।
সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, এমএমআর টিকার দুই ডোজ হাম প্রতিরোধে প্রায় ৯৭ শতাংশ কার্যকর। এক ডোজের কার্যকারিতা প্রায় ৯৩ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০০০ সালে হাম নির্মূল হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে বিদেশ থেকে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি দেশে প্রবেশের পর টিকা না নেওয়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে আবারও বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে।
হাম শিশুদের জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। বয়সের কারণে এখনো এমএমআর টিকা নেওয়ার পর্যায়ে না পৌঁছানো শিশু কিংবা চিকিৎসাগত কারণে টিকা নিতে না পারা শিশুদের সুরক্ষা অনেকাংশেই আশপাশের মানুষের টিকা গ্রহণের ওপর নির্ভর করে।
নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ায় তাই টিকা গ্রহণের হার কম থাকা এলাকাগুলোতে বিশেষ নজর রাখছেন জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
সিডিসি বলছে, হাম থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এমএমআর টিকা। শিশুদের টিকার অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পরিবারগুলোকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।