সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
৬:৫৪ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০২৬

ইরানের পরমাণু কর্মসূচির চেয়ে তেলের দাম কমানোই এখন অগ্রাধিকার যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অগ্রাধিকারে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকানোর পাশাপাশি এখন মার্কিন নাগরিকদের জন্য তেল ও গ্যাসের দাম কম রাখাই ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। একই সময়ে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি […]

ইরানের পরমাণু কর্মসূচির চেয়ে তেলের দাম কমানোই এখন অগ্রাধিকার যুক্তরাষ্ট্রের

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ মিনিটে পড়ুন |

ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অগ্রাধিকারে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকানোর পাশাপাশি এখন মার্কিন নাগরিকদের জন্য তেল ও গ্যাসের দাম কম রাখাই ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।

একই সময়ে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি চলছে। আগামী সপ্তাহেই নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভ্যান্স ও বেসেন্টের বক্তব্যে ইরানের হাতে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে তৈরি হওয়া কৌশলগত চাপের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রও এখন অর্থনৈতিক চাপ ও জ্বালানির দামের বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিই হয়ে উঠেছে সংঘাতের কেন্দ্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখাই সামরিক অভিযানের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। কিন্তু ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তার ভাষায়, সংঘাত শুরুর পর তেলের দাম যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল, সেখান থেকে ইতোমধ্যে কিছুটা কমেছে। তবে আমেরিকানদের জন্য তেল ও গ্যাসের দাম সাশ্রয়ী রাখা এখন তাদের প্রথম অগ্রাধিকার।

ভ্যান্স অবশ্য এটিও স্পষ্ট করেন যে, ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেটিও যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে তুলনামূলকভাবে বেশি সতর্ক অবস্থানে থাকা ব্যক্তিদের একজন ছিলেন ভ্যান্স। তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অপেক্ষাকৃত সংযত অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন

সামরিক অভিযানের পাশাপাশি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর মধ্যে দেশটির বন্দর অবরোধ এবং তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত করার মতো পদক্ষেপও রয়েছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার দাবি, ইরানকে এমন অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে ফেলা হবে, যার নজির বিশ্ব আগে দেখেনি। আগামী সপ্তাহে নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

মাত্র কয়েক দিন আগেও ট্রাম্প বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে তার প্রশাসনের বক্তব্যে কঠোর অবস্থান ধরে রাখার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

কূটনৈতিক তৎপরতাও আপাতত অনেকটা স্থবির। ওয়াশিংটনের ধারণা, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়লে দেশটির অভ্যন্তরীণ সংকট তীব্র হবে এবং শেষ পর্যন্ত তেহরানকে সমঝোতায় আসতে বাধ্য করা সম্ভব হতে পারে।

রোববার ট্রাম্পও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আপাতত বিষয়টি অপেক্ষাকৃত নিচু মাত্রায় রাখছে এবং ইরানের সঙ্গে সীমিত পরিসরে যোগাযোগ করছে। একই সঙ্গে তিনি দেশটির মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের দিকে নজর রাখার কথা জানান।

অস্ত্রের মজুত কমে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর কয়েক মাসে মার্কিন সামরিক বাহিনী অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ব্যবহার করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

ফলে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের বিকল্প কিছুটা সীমিত হয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভ্যান্সও জ্বালানি ও সামরিক লক্ষ্য—দুই ধরনের অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেছেন। তার মতে, কখনো জ্বালানির দাম নিয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হয়, কারণ সাধারণ আমেরিকানদের জন্য তেল ও গ্যাসের মূল্য সহনীয় রাখা জরুরি। আবার পরিস্থিতি অনুযায়ী সামরিক বিষয় এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিও গুরুত্ব পায়।

হরমুজ খুলতে ইরানের একাধিক শর্ত

সম্প্রতি ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি দ্রুত পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হলে ইরানে নতুন করে হামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

তবে প্রণালিটি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে ইরান বেশ কয়েকটি শর্ত দিয়েছে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব শর্ত মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি নয় বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

ইরানের দাবিগুলোর সঙ্গে জুনে স্বাক্ষরিত কথিত একটি সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলোরও মিল রয়েছে। পরে যুদ্ধ আবার শুরু হওয়ায় সেই সমঝোতা কার্যত ভেস্তে যায়। ওই সমঝোতায় ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের প্রস্তাবও ছিল।

সব মিলিয়ে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের বর্তমান পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত রাখার লক্ষ্য ধরে রাখলেও অন্যদিকে তেল সরবরাহ ও জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণকে তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার দিচ্ছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় কত দ্রুত স্বাভাবিক করা যায় এবং অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানকে কতটা ছাড় দিতে বাধ্য করা যায়—এখন সেটিই ওয়াশিংটনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ