যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ১৫ কোটির বেশি ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য ডার্ক ওয়েবে বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে—এমন দাবির তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই)। সাইবার অপরাধীদের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিপুলসংখ্যক সরকারি পরিচয়পত্রের তথ্য থাকার খবর প্রকাশের পর বিষয়টি তদন্তের আওতায় নেয় সংস্থাটি। সাইবার নিরাপত্তা গবেষক ও সাংবাদিকদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘নেক্সাস’ নামে একটি ডার্ক ওয়েব […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ১৫ কোটির বেশি ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য ডার্ক ওয়েবে বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে—এমন দাবির তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই)। সাইবার অপরাধীদের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিপুলসংখ্যক সরকারি পরিচয়পত্রের তথ্য থাকার খবর প্রকাশের পর বিষয়টি তদন্তের আওতায় নেয় সংস্থাটি।
সাইবার নিরাপত্তা গবেষক ও সাংবাদিকদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘নেক্সাস’ নামে একটি ডার্ক ওয়েব সেবায় বিপুলসংখ্যক পরিচয়পত্রের স্ক্যান বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ১৫ কোটি ৩০ লাখের বেশি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকার দাবি করা হয়। পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি পরিচয়পত্র ও নথির তথ্যও সেখানে থাকার কথা বলা হয়েছে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর এফবিআই তদন্ত শুরু করেছে। সংস্থাটি তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, ডার্ক ওয়েবে তালিকাভুক্ত তথ্যের মধ্যে শুধু ড্রাইভিং লাইসেন্স নয়, বিভিন্ন ধরনের পরিচয়পত্র, ভ্রমণসংক্রান্ত নথি ও অন্যান্য সরকারি কাগজপত্রও রয়েছে। এসব নথির মধ্যে নাম, ছবি, পরিচয় নম্বরসহ ব্যক্তিগত তথ্য থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
এই ঘটনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি পরিচয় যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য সংযোগ নিয়েও তদন্ত চলছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে নিউ অরলিন্সভিত্তিক IDScan বা IDScan.net-এর নাম এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ১ সেপ্টেম্বরের দিকে তারা তাদের কিছু তথ্য অনুমোদনহীনভাবে প্রবেশ বা ব্যবহারের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে পারে। এরপর সিস্টেম সুরক্ষিত করার পাশাপাশি তৃতীয় পক্ষের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
IDScan-এর ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের গ্রাহক অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত কিছু তথ্য অনুমতি ছাড়া দেখা বা কপি করা হয়ে থাকতে পারে। তবে বিপুলসংখ্যক ড্রাইভিং লাইসেন্স সরাসরি ওই প্রতিষ্ঠান থেকেই চুরি হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
সাইবার নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ড্রাইভিং লাইসেন্সের পূর্ণাঙ্গ স্ক্যান ফাঁস হলে তা পরিচয় চুরি, ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতারণায় ব্যবহার করা হতে পারে। ফলে ঘটনাটিকে বড় ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডার্ক ওয়েবের ওই প্ল্যাটফর্মটি পরে বন্ধ হয়ে গেলেও আগে ডাউনলোড করা তথ্য অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তদন্তের পাশাপাশি সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্তদের তথ্য সুরক্ষায় সতর্ক থাকার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।