যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে। শুক্রবার প্রতি গ্যালনের দাম বেড়ে ৫ দশমিক ৮৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের জুনে গড়া ৫ দশমিক ৮১৬ ডলারের আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কৃষক, ট্রাকচালক ও পণ্য পরিবহন প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাড়তি জ্বালানি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এর প্রভাব শুধু পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে। শুক্রবার প্রতি গ্যালনের দাম বেড়ে ৫ দশমিক ৮৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের জুনে গড়া ৫ দশমিক ৮১৬ ডলারের আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কৃষক, ট্রাকচালক ও পণ্য পরিবহন প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাড়তি জ্বালানি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এর প্রভাব শুধু পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের খরচ বাড়ায় মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বাড়ছিল। তবে গত দুই দিনে একাই দাম বেড়েছে ১৭ সেন্ট। সাধারণত তুলনামূলক বেশি কর, কঠোর পরিবেশগত বিধিনিষেধ এবং প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল থেকে গ্যাসোলিনের তুলনায় কম ডিজেল উৎপাদনের কারণে ডিজেলের দাম বেশি থাকে।
এবার এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা। হরমুজ প্রণালির সংকটের পাশাপাশি রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলাও বিশ্বজুড়ে ডিজেল পরিশোধন সক্ষমতার ওপর চাপ বাড়িয়েছে।
গ্যাসবাডির পেট্রোলিয়াম বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান প্যাট্রিক ডি হান বলেন, শোধনাগারগুলোর সক্ষমতার পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত গ্যাসোলিন ও ডিজেলের দাম আরও বাড়ার চাপ থাকতে পারে।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিস ক্যাম্পাসের অর্থনীতির অধ্যাপক এরিখ মিউহলেগার বলেন, মানুষের ভোগ করা প্রায় সব পণ্যের সঙ্গেই কোনো না কোনোভাবে ডিজেল জড়িত। ফলে জ্বালানিটির দাম বাড়লে এর প্রভাব অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে পড়ে।
ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে মাছ ধরা, কৃষি ও নির্মাণের মতো খাতে উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে। কৃষকদের জন্য চাপ আরও বেশি, কারণ যুদ্ধের কারণে সারের দামও বেড়েছে।
মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক জেসন মিলার জানান, শরৎকালীন শোধনাগার রক্ষণাবেক্ষণ মৌসুমের আগে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের মজুত বাড়তে থাকে। কিন্তু এবার সেই সময়ে দেশটিতে ডিজেলের মজুত নজিরবিহীনভাবে কম।
পণ্য পরিবহন খাতেও এর প্রভাব পড়ছে। বড় পরিবহন প্রতিষ্ঠানগুলো জ্বালানি ব্যয় সামলাতে সারচার্জ বাড়াতে পারলেও ছোট পরিবহন ব্যবসাগুলো তুলনামূলক বেশি চাপে পড়ছে।
ওনার-অপারেটর ইন্ডিপেনডেন্ট ড্রাইভার্স অ্যাসোসিয়েশনের জনসংযোগ পরিচালক জর্জ ও’কনর বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লে ছোট ব্যবসার ট্রাকচালকেরাই সবচেয়ে দ্রুত এর প্রভাব অনুভব করেন। পণ্য পরিবহনের ভাড়া কম থাকার সময়ে ডিজেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেলে ছোট ট্রাকিং ব্যবসার সামান্য মুনাফাও সহজেই শেষ হয়ে যেতে পারে।
অধ্যাপক মিলার বলেন, ভোক্তাদের দৈনন্দিন ব্যয়ের ওপর গ্যাসোলিনের দাম সরাসরি বেশি প্রভাব ফেললেও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ডিজেল আরও গুরুত্বপূর্ণ।
ডিজেলের এই মূল্যবৃদ্ধি ভবিষ্যতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও প্রভাব ফেলতে পারে। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের জন্য সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বরং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানোর চাপও তৈরি হতে পারে।
অ্যাগেইন ক্যাপিটালের প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার জন কিলডাফ বলেন, ফেডারেল রিজার্ভ ইতোমধ্যেই কঠিন অবস্থানে রয়েছে। জ্বালানির দাম নতুন করে বাড়তে থাকলে তাদের আবারও বাড়তি মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতে হবে।
যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ সংকটের প্রভাব যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের রেকর্ড দাম শুধু পরিবহন বা কৃষি খাতেই নয়, পুরো অর্থনীতির ওপরই বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।