সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

প্রধান খবর
১২:২৬ পিএম, ৬ মে ২০২৬

যুদ্ধ থামাতে ইরানের সঙ্গে এক পাতার সমঝোতার পথে যুক্তরাষ্ট্র, কী থাকছে প্রস্তাবে

যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তী পারমাণবিক আলোচনা এগিয়ে নিতে ইরানের সঙ্গে এক পাতার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউস এমনটাই মনে করছে বলে বুধবার (৬ মে) জানিয়েছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত আরও দুটি সূত্র। ওয়াশিংটন আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে তেহরানের অবস্থান জানতে চায়। যদিও […]

যুদ্ধ থামাতে ইরানের সঙ্গে এক পাতার সমঝোতার পথে যুক্তরাষ্ট্র, কী থাকছে প্রস্তাবে

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তী পারমাণবিক আলোচনা এগিয়ে নিতে ইরানের সঙ্গে এক পাতার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউস এমনটাই মনে করছে বলে বুধবার (৬ মে) জানিয়েছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত আরও দুটি সূত্র।

ওয়াশিংটন আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে তেহরানের অবস্থান জানতে চায়। যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, সংশ্লিষ্টদের মতে সংঘাত শুরুর পর এই প্রথম দুই পক্ষ এতটা কাছাকাছি এসেছে।

প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, ইরান সাময়িকভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখবে। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের বিপুল অর্থ ছাড়ের উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার কথাও রয়েছে।

তবে এই সমঝোতার অনেক শর্তই ভবিষ্যতের পূর্ণাঙ্গ চুক্তির ওপর নির্ভরশীল। ফলে আপাতত যুদ্ধ থামার সম্ভাবনা তৈরি হলেও দীর্ঘমেয়াদে অনিশ্চয়তা থেকেই যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের ধারণা, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন যেকোনো চুক্তিকে জটিল করে তুলতে পারে। এমনকি প্রাথমিক এই সমঝোতাও ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন কিছু মার্কিন কর্মকর্তা।

এর আগে একাধিকবার আলোচনা এগোলেও শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি বাস্তবায়ন হয়নি। তবে সাম্প্রতিক অগ্রগতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আপাতত সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, ১৪ দফা প্রস্তাবনা নিয়ে দর-কষাকষি চলছে। উভয় পক্ষ সরাসরি এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছে। খসড়ায় বলা হয়েছে, প্রথমে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হবে, এরপর ৩০ দিনের নিবিড় আলোচনায় পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সমুদ্রপথ উন্মুক্ত রাখার বিষয়গুলো চূড়ান্ত করার চেষ্টা হবে।

আলোচনার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে ইসলামাবাদ বা জেনেভার নাম উঠে এসেছে। এই সময়ে ধাপে ধাপে সামরিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতে পারে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে পুনরায় অবরোধ বা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগও রাখছে যুক্তরাষ্ট্র।

সবচেয়ে বড় মতবিরোধ তৈরি হয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখার সময়সীমা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি সীমাবদ্ধতা চাইছে, আর ইরান তুলনামূলক স্বল্পমেয়াদি প্রস্তাব দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই সময়সীমা এক দশকের বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং এ ধরনের কোনো কার্যক্রমে জড়াবে না। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য উন্মুক্ত পরিদর্শনের ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে, যাতে প্রয়োজন হলে ইরানের স্থাপনাগুলো পরীক্ষা করা যায়।

এ ছাড়া উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে, যা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দাবি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে ইরানের অর্থনৈতিক প্রবাহ স্বাভাবিক করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে।

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি প্রসঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত মঙ্গলবার বলেন, এ ধরনের কোনো চুক্তি চূড়ান্ত করতে তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই। বিষয়টিকে জটিল ও কৌশলগত উল্লেখ করে তিনি স্বচ্ছ কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেন।

রুবিও আরও বলেন, আলোচনার সফলতা নির্ভর করছে শুরুতেই দুই পক্ষ কতটা ছাড় দিতে প্রস্তুত তার ওপর। তবে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন, তারা আদৌ কোনো কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী কি না।

সূত্র: এক্সিওস

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ