ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অভিযোগ (চার্জ) গঠনের অসমাপ্ত শুনানির জন্য আগামী ১৪ জুলাই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। বুধবার বিকেলে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মঈন উদ্দিন চৌধুরী এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, এদিন কারাগারে থাকা ৩২ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। […]
ছবি: সংগৃহীত
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অভিযোগ (চার্জ) গঠনের অসমাপ্ত শুনানির জন্য আগামী ১৪ জুলাই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।
বুধবার বিকেলে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মঈন উদ্দিন চৌধুরী এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এদিন কারাগারে থাকা ৩২ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের উপস্থিতিতে বেলা ২টায় অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হয়। প্রথমে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি উপস্থাপন করে। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে বক্তব্য দেন।
তবে আসামিপক্ষের শুনানি শেষ না হওয়ায় আদালত অভিযোগ গঠনের বিষয়ে কোনো আদেশ না দিয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৪ জুলাই দিন ধার্য করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী গোলাম নবী।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক। তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ মোট ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
এরপর ১৪ আগস্ট আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ১১ সেপ্টেম্বর তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পরে ১৪ অক্টোবর পলাতক ২৫৬ আসামিকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় গত ১১ নভেম্বর মামলাটি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে অভিযোগ গঠনের কার্যক্রম চলাকালে মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ থেকে বর্তমান আদালতে স্থানান্তর করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ড. রাব্বী আলমের নেতৃত্বে আয়োজিত ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর একটি জুম সভায় শেখ হাসিনাসহ কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। সেখানে শেখ হাসিনা দেশবিরোধী বক্তব্য দেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
চার্জ গঠনের শুনানি শেষে আদালত অভিযোগ গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন এবং অভিযোগ গঠন হলে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।