লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড এলাকায় এক নারীকে জুসের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে, যিনি নিজেই ওই এলাকার একজন বাসিন্দা এবং অভিযুক্ত তার আপন ভাগ্নি জামাই। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৮টার দিকে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত থেকে […]
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড এলাকায় এক নারীকে জুসের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে, যিনি নিজেই ওই এলাকার একজন বাসিন্দা এবং অভিযুক্ত তার আপন ভাগ্নি জামাই। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৮টার দিকে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত থেকে জানা যায়, অভিযুক্ত মো. আরিফ (২৮), যিনি পেশায় মৎস্য শিকারি, ভুক্তভোগীর ঘরে এসে জুসের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে তাকে এবং তার শিশু সন্তানকে খেতে দেয়। কিছু সময়ের মধ্যে তারা দুজনেই অচেতন হয়ে পড়েন। এ সময় অভিযুক্ত ঘরের দরজা ও লাইট বন্ধ করে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ওই অবস্থানে ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানান, আরিফ টাকা-পয়সার লেনদেনের অজুহাত দেখিয়ে ওই রাতে বাড়িতে এসেছে। সরল বিশ্বাসে তারা তার দেওয়া জুস পান করলে বিপত্তির মুখে পড়ে। বিশেষ করে ভুক্তভোগীর ছেলে শরীফ হোসেন জানান, তিনি বাইরে চলে যাওয়ার পর ফিরে এসে মা ও ভাইয়ের অচেতন অবস্থায় পড়া দেখে দ্রুত সাহায্যের জন্য চিৎকার করেন, এবং তখনই আরিফ খাটের নিচে লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়ে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের সভাপতি তারেক রহমান রকি জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীকে অচেতন ও অগোছালো অবস্থায় দেখতে পান। এরপর পুলিশকে অবহিত করে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মীর আমিনুল ইসলাম মঞ্জু জানিয়েছেন, চেতনানাশক যুক্ত জুস খাওয়ানোর কারণে ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত স্টমাক ওয়াশ করানো জরুরি, যা তারা করেছি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কমলনগর থানার ওসি তহিদুল ইসলামও হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগীর খোঁজখবর নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ধরনের ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং সামাজিক নিরাপত্তার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। পরিবারের ভেতরে এমন গুরুতর অপরাধের ঘটনা সমাজে মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন আরও কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির।
এছাড়াও, চেতনানাশক দিয়ে অপরাধ সংঘটনের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সতর্কতা জরুরি। বিশেষ করে, অপরিচিত বা সান্নিধ্য থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে খাবার বা পানীয় গ্রহণের ক্ষেত্রে সজাগ থাকা উচিত। প্রশাসনকে এ ধরণের ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে অপরাধীরা নিরুৎসাহিত হয়।
পাঠকদের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা, যে নিরাপত্তা হেফাজতের ক্ষেত্রে ঘরেই সতর্ক থাকতে হবে। যেকোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে দ্রুত পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।