ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফরে যাননি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১০ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর জানান, নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বা বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন না। এর পরদিনই ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যায়। আদানি পাওয়ারের ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গোড্ডা […]
ছবি: সংগৃহীত
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফরে যাননি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১০ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর জানান, নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বা বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন না। এর পরদিনই ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যায়।
আদানি পাওয়ারের ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ৮০০ মেগাওয়াট ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়েছে। এর আগে কেন্দ্রটি থেকে বাংলাদেশে প্রায় ১ হাজার ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার পর সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ৭৫৮ মেগাওয়াটে।
এদিকে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতিও তখন চাপের মধ্যে ছিল। ১০ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টার দিকে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে উৎপাদন ও সরবরাহ ছিল ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ ইউনিটটিতে কারিগরি সমস্যা দেখা দেয়। এর আগে কেন্দ্রটিতে কয়লা সরবরাহ নিয়েও সমস্যা ছিল। রেলপথে কয়লা পরিবহনের জটিলতার কারণে কিছু সময় কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারেনি।
কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পর উৎপাদন বাড়লেও নতুন করে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে আবারও বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রভাব পড়ে বিতরণ ব্যবস্থায়। জাতীয় গ্রিডে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার দিকে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
দেশের কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানির সংকটে কম সক্ষমতায় চলায় সামগ্রিক ঘাটতি আরও বাড়ছে। ফলে একটি বড় আমদানি করা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ হওয়ার প্রভাব দ্রুত জাতীয় গ্রিডে পড়ছে।
ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেননি। সম্মেলনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আগে আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ঢাকা সফরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ এই সম্মেলনে কোনো প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে না বলেও জানানো হয়।
এর পরদিন আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার ঘটনা সামনে আসে। দুটি ঘটনার সময় কাছাকাছি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হলেও, আদানি ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়েছে বা প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর না করার সিদ্ধান্তের সঙ্গে ইউনিট বন্ধ হওয়ার কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, এমন প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশে আমদানি করা বিদ্যুতের অন্যতম বড় উৎস। কেন্দ্রটির দুই ইউনিটের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। এর একটি ইউনিট বন্ধ থাকলে একসঙ্গে ৮০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা জাতীয় গ্রিডের বাইরে চলে যায়।
দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি আমদানি করা বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা থাকায় বড় কোনো কেন্দ্র অচল হলে ঘাটতি দ্রুত বেড়ে যায়। বর্তমান পরিস্থিতি সেই নির্ভরতার ঝুঁকিটিকেও সামনে এনেছে।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে বন্ধ ইউনিটটি দ্রুত সচল করা এবং দেশের অন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস, কয়লা ও প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: ইত্তেফাক, রয়টার্স, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড