আসন্ন দুর্গাপূজা সামনে রেখে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানির অনুমতি চেয়েছে ভারতের মাছ আমদানিকারকরা। এ জন্য ইলিশ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে কলকাতাভিত্তিক ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) পাঠানো চিঠিতে সংগঠনটি বাংলাদেশ থেকে আবারও ইলিশ আমদানির সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানায়। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রপ্তানির জন্য ১৮টি প্রতিষ্ঠান […]
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন দুর্গাপূজা সামনে রেখে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানির অনুমতি চেয়েছে ভারতের মাছ আমদানিকারকরা। এ জন্য ইলিশ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে কলকাতাভিত্তিক ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) পাঠানো চিঠিতে সংগঠনটি বাংলাদেশ থেকে আবারও ইলিশ আমদানির সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানায়। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রপ্তানির জন্য ১৮টি প্রতিষ্ঠান সরকারের কাছে আবেদন করেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারতীয় আমদানিকারকদের অনুরোধ তারা পেয়েছে। তবে কত পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। স্থানীয় বাজারে ইলিশের সরবরাহ ও চাহিদা পর্যালোচনার জন্য আবেদনগুলো মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতামতের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
ভারতীয় আমদানিকারক সংগঠনটি তাদের চিঠিতে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আনার দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছে। তাদের দাবি, ১৯৯৬ সাল থেকে বেনাপোল ও আখাউড়া স্থলবন্দর ব্যবহার করে তারা বাংলাদেশি ইলিশ আমদানি করে আসছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ২০১২ সালে বাংলাদেশ ইলিশ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন করা হলেও তা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হয়নি বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০১৯ সাল থেকে বাংলাদেশ সীমিত সময়ের জন্য বিশেষ অনুমতিতে ইলিশ রপ্তানির সুযোগ দিয়ে আসছে। তবে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অল্প সময়ের এই অনুমতিতে আমদানি ও সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ভারতে ইলিশ পাঠানোর অনুমতি চেয়ে এবার বাংলাদেশি ১৮টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের আবেদনের পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেশের বাজারে ইলিশের বর্তমান সরবরাহ ও স্থানীয় চাহিদা সম্পর্কে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছে।
বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান জানিয়েছেন, ভারতীয় মাছ ব্যবসায়ীদের অনুরোধ এবং দেশীয় রপ্তানিকারকদের আবেদন মন্ত্রণালয়ে এসেছে। ইলিশের অভ্যন্তরীণ প্রাপ্যতা ও চাহিদা বিবেচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বাংলাদেশের বাজারে ইলিশের সরবরাহ পর্যাপ্ত কি না, সাধারণ ভোক্তার চাহিদা কতটা পূরণ হচ্ছে এবং রপ্তানি করলে স্থানীয় বাজারে তার প্রভাব কী হতে পারে, এসব বিষয় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গুরুত্ব পাবে।
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন বছরে সীমিত পরিমাণে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে। তবে অনুমোদিত পরিমাণের পুরোটা অনেক সময় রপ্তানি হয়নি।
২০২৫ সালে ২ হাজার ৪২০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ৫৭৭ টন ভারতে পাঠানো হয়েছিল বলে বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট তথ্যের বরাতে জানা গেছে। এর আগের বছর ১ হাজার ২০০ টনের অনুমতি থাকলেও রপ্তানি হয়েছিল প্রায় ১৫০ টন। স্থানীয় বাজারে বেশি দাম ও সরবরাহ সংকটের কারণে অনুমোদিত পরিমাণের পুরোটা রপ্তানি করা কঠিন হয়েছিল।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরায় বাংলাদেশি ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে দুর্গাপূজার সময় পদ্মার ইলিশকে ঘিরে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ে বলে ভারতীয় আমদানিকারকদের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশে ইলিশ শুধু জনপ্রিয় মাছই নয়, দেশের মানুষের খাদ্যচাহিদারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে রপ্তানির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম বিবেচনার বিষয়।
এবার ভারতীয় আমদানিকারকদের অনুরোধের পাশাপাশি বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের আবেদনও জমা পড়েছে। এখন দেশের বাজারে ইলিশের প্রাপ্যতা ও চাহিদার তথ্য পর্যালোচনার পর রপ্তানির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অপেক্ষা।
সূত্র: ইত্তেফাক, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, এএনআই