শিশু ও কিশোরদের ওপর ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ক্ষতিকর প্রভাবের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের করা মামলার নিষ্পত্তিতে ১৮ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলার পরিশোধে সম্মত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান মেটা। আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে এই সমঝোতা কার্যকর হবে। অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ ছিল, মেটার মালিকানাধীন ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন ফিচার শিশু ও কিশোরদের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠেছে। […]
শিশু ও কিশোরদের ওপর ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ক্ষতিকর প্রভাবের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের করা মামলার নিষ্পত্তিতে ১৮ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলার পরিশোধে সম্মত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান মেটা। আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে এই সমঝোতা কার্যকর হবে।
অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ ছিল, মেটার মালিকানাধীন ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন ফিচার শিশু ও কিশোরদের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠেছে। মামলার নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য দৈনিক ব্যবহারের সীমা এবং রাতে প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে বাধা দেওয়ার মতো কিছু নির্দিষ্ট ব্যবস্থা চালুর শর্তও রয়েছে।
এক বিবৃতিতে মেটা জানিয়েছে, তারা মোট ১৮ বিলিয়ন ডলার পরিশোধে সম্মত হয়েছে। তবে এই অর্থের ৩০ শতাংশ নির্ভর করছে ইউটিউব ও টিকটকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সমঝোতার ওপর।
মেটা জানিয়েছে, পুরো অর্থ একবারে দেওয়া হবে না। ১০ বছর ধরে বার্ষিক কিস্তিতে এই অর্থ পরিশোধ করা হবে।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, সমঝোতা থেকে পাওয়া অর্থ ‘অনলাইন পরিবেশে তরুণদের নিরাপত্তা উদ্যোগসহ অঙ্গরাজ্যগুলোর অন্যান্য অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচিতে অর্থায়নের’ কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।
মামলায় অংশ নেওয়া অঙ্গরাজ্যগুলো ১০ বছরের মেয়াদে মোট অর্থের প্রায় ৭০ শতাংশ পাবে। এর পরিমাণ প্রায় ১২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।
বাকি ৩০ শতাংশ অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত রাখা হয়েছে। মেটার মালিকানাধীন নয় এমন ইউটিউব ও টিকটককে কিশোরদের জন্য দৈনিক এক ঘণ্টা ব্যবহারের সীমা, নাইট মোড এবং বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু করতে হবে। এ দুটি প্ল্যাটফর্মকে ওই ৩০ শতাংশ অংশের সমপরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
মেটা জানিয়েছে, এই অংশের অর্থের অর্ধেক ইউটিউবের এবং বাকি অর্ধেক টিকটকের অর্থ পরিশোধের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকবে।
সমঝোতার পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ার কারণে মেটার আর্থিক হিসাবেও বড় ধরনের ব্যয়ের প্রভাব পড়তে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মামলাগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনি ব্যয় হিসেবে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে আনুমানিক ১০ বিলিয়ন ডলার বা ৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হিসেবে হিসাবভুক্ত করার প্রত্যাশা করছে।
শিশু ও কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সময়সীমা, রাতের ব্যবহার বন্ধ এবং ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের মতো বিষয় নিয়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আইনি লড়াইও চলছে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা