সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান প্রশ্নে কোনো প্রতিকার না পাওয়া এবং তাদের উত্থাপিত প্রস্তাবকে আড়াল করতে নতুন আরেকটি প্রস্তাব আনার অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। বুধবার বিকেলে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ওয়াকআউটের ঘোষণা দিলে তার সঙ্গে বিরোধী সদস্যরাও সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন। এর আগে মঙ্গলবার সংসদে সংবিধান সংস্কার নিয়ে একটি […]
সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান প্রশ্নে কোনো প্রতিকার না পাওয়া এবং তাদের উত্থাপিত প্রস্তাবকে আড়াল করতে নতুন আরেকটি প্রস্তাব আনার অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। বুধবার বিকেলে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ওয়াকআউটের ঘোষণা দিলে তার সঙ্গে বিরোধী সদস্যরাও সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।
এর আগে মঙ্গলবার সংসদে সংবিধান সংস্কার নিয়ে একটি মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হয়। সেখানে সরকারি দল সংবিধান সংশোধনের জন্য সর্বদলীয় বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয়। তবে বিরোধী দল এতে সম্মতি দেয়নি। তাদের বক্তব্য ছিল, সংবিধান সংস্কার পরিষদকে কেন্দ্র করে কোনো কমিটি হলে সেটি তারা বিবেচনা করবে।
বুধবার প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিতে দাঁড়িয়ে ডা. শফিকুর রহমান আগের দিনের মুলতবি প্রস্তাবের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, বিষয়টি জনআকাঙ্ক্ষা, গণভোট এবং বিপুল জনগোষ্ঠীর মতামতের সঙ্গে যুক্ত। তাই তারা আশা করেছিলেন স্পিকারের মাধ্যমে একটি প্রতিকার বা সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয় বলে তিনি জানতে চান।
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, এটি ছিল একটি মুলতবি প্রস্তাব, যা তার অনুপস্থিতিতে গৃহীত হয়েছিল। তিনি বলেন, দেশের ৫৩ বছরের সংসদীয় ইতিহাসে খুব অল্প কয়েকটি মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে, এবং বিরোধী দলের প্রস্তাবটিও উদারতার সঙ্গে আলোচনার সুযোগ দেওয়ার জন্য গ্রহণ করা হয়েছিল।
স্পিকার আরও বলেন, যে সমস্যার সমাধান কেবল আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সম্ভব, তা সাধারণত মুলতবি প্রস্তাবের আওতায় পড়ে না। তবু বিরোধী দলের আরও বক্তব্য থাকলে তা শোনার সুযোগ রাখা হবে।
এরপর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা একটি প্রতিকার প্রত্যাশা করেছিলেন। এটি কোনো একক দলের বিষয় নয়; বরং নির্বাচনের আগে সরকারি ও বিরোধী—উভয় পক্ষই এ বিষয়ে একমত ছিল এবং জনসমর্থনও ছিল। কিন্তু সেই জনরায়ের যথাযথ প্রতিফলন না হওয়ায় তারা এই অবমূল্যায়ন মেনে নিতে পারছেন না।
তিনি বলেন, “আমরা প্রতিকার পেলাম না। জনগণের রায়ের মূল্যায়ন হলো না। তাই এর প্রতিবাদে আমরা ওয়াকআউট করছি।”
এ সময় স্পিকার তাকে অনুরোধ করে বলেন, কিছুক্ষণ পর আরেকটি মুলতবি প্রস্তাব বিবেচনায় আসবে, যেখানে হয়তো তাদের প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, নতুন নোটিশটি তাদের মূল প্রস্তাবকে চাপা দেওয়ার জন্যই সামনে আনা হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। সেই কারণেই দুইটি বিষয়ের প্রতিবাদে তারা আপাতত সংসদ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন।
পরে স্পিকার সংসদীয় রীতি অনুযায়ী ওয়াকআউটের অধিকার তাদের আছে বলে মন্তব্য করলে বিরোধী সদস্যরা একযোগে কক্ষ ত্যাগ করেন।