উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অবশ্যই ইরানের ভেতরেই রাখতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ইরানের শীর্ষ পর্যায় থেকে এমন অবস্থান নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান দাবি হচ্ছে, ইরানের অস্ত্রমানের কাছাকাছি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দেশটির বাইরে সরিয়ে নিতে হবে। তবে […]
ছবি: সংগৃহীত
উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অবশ্যই ইরানের ভেতরেই রাখতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ইরানের শীর্ষ পর্যায় থেকে এমন অবস্থান নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান দাবি হচ্ছে, ইরানের অস্ত্রমানের কাছাকাছি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দেশটির বাইরে সরিয়ে নিতে হবে। তবে তেহরান সেই প্রস্তাবে রাজি নয় বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে যেকোনো সম্ভাব্য শান্তি চুক্তিতে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানোর শর্ত রাখা হবে।
পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা বেসামরিক ব্যবহারের সীমার চেয়ে অনেক বেশি এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার কাছাকাছি। যদিও ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া, প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত তারা যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলে মনে করবে না।
ইরানি সূত্রগুলো বলছে, দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করেন, ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানো হলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের হামলার মুখে ইরান আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত এখন একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মধ্যে রয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও বন্দর অবরোধের কারণে পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ।
ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান শান্তি চুক্তিতে সম্মত না হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার তথ্যমতে, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর এর কতটুকু অক্ষত আছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।