সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

রাজনীতি
২:২২ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

সরকারের সমান্তরালে নজরদারির প্রস্তুতি, ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গড়ছে জামায়াত

দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন একটি কাঠামো আনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিরোধী দল হিসেবে তারা ‘শ্যাডো কেবিনেট’ বা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে, যা সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও বিকল্প নীতি প্রস্তাবের লক্ষ্যেই তৈরি করা হচ্ছে। দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সিনিয়র নেতা এবং বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক এই ছায়া মন্ত্রিসভা সাজানো […]

সরকারের সমান্তরালে নজরদারির প্রস্তুতি, ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গড়ছে জামায়াত

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন একটি কাঠামো আনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিরোধী দল হিসেবে তারা ‘শ্যাডো কেবিনেট’ বা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে, যা সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও বিকল্প নীতি প্রস্তাবের লক্ষ্যেই তৈরি করা হচ্ছে।

দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সিনিয়র নেতা এবং বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক এই ছায়া মন্ত্রিসভা সাজানো হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও এক থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কথিত তালিকা ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে আমির ডা. শফিকুর রহমানকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ দেখানো হয়। তবে দলটি স্পষ্ট জানিয়েছে—এই তালিকা সম্পূর্ণ ভুয়া এবং এখনো কোনো চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হয়নি।

এই ধারণাটি নতুন নয়। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির প্রকাশ্যে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের পক্ষে মত দেন। তার মতে, এতে সংসদের ভেতরে-বাইরে গঠনমূলক বিতর্ক বাড়বে এবং নেতৃত্বের মান উন্নত হবে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোট বিরোধী দল হিসেবে সংসদে জায়গা করে নেয়। সেই অবস্থান থেকেই সরকারের ওপর কার্যকর নজরদারি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এই ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সংসদীয় গণতন্ত্রে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ একটি পরিচিত কাঠামো—বিশেষ করে যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে এর প্রচলন রয়েছে। এতে বিরোধী দল সরকারকে বিকল্প নীতি দেখায় এবং প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে নিজেদের দায়িত্বশীল প্রতিনিধি রাখে।

সব মিলিয়ে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের রাজনীতিতে নতুন ধরনের প্রতিযোগিতামূলক ও জবাবদিহিমূলক পরিবেশ তৈরি হতে পারে—যেখানে সরকার ও বিরোধী দল উভয়কেই আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ