কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের প্রকোপ তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে হাড়কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সব শ্রেণি–পেশার মানুষ। এরই মধ্যে একসঙ্গে ২১টির বেশি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ঘন কুয়াশার কারণে অনেক এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় সূর্যের দেখা মিলছে না, ফলে স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বছরের শেষ দিন বুধবার […]
কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের প্রকোপ তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে হাড়কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সব শ্রেণি–পেশার মানুষ। এরই মধ্যে একসঙ্গে ২১টির বেশি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ঘন কুয়াশার কারণে অনেক এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় সূর্যের দেখা মিলছে না, ফলে স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বছরের শেষ দিন বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) গোপালগঞ্জ জেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। গোপালগঞ্জ আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক আবু সুফিয়ান গণমাধ্যমকে জানান, বুধবার সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ, যা শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাংলাদেশে শীতকালীন সর্বনিম্ন তাপমাত্রার বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ড রয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে তীব্র শীত অনুভূত হয় ২০১৮ সালে। ওই বছরের ৮ জানুয়ারি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা নেমে আসে ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত। একই দিনে সৈয়দপুরে তাপমাত্রা ছিল ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি, নীলফামারীর ডিমলায় ৩ ডিগ্রি, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৩ দশমিক ১ ডিগ্রি এবং দিনাজপুরে ৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, সেদিন রংপুর বিভাগের আটটি জেলার সবগুলোতেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গিয়েছিল। ওই বছর দফায় দফায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যায়।
এর পরের বছর, ২০১৯ সালে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এ ছাড়া আরও পেছনে গেলে, ১৯৬৮ সালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় দেশের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিসেবে ২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল, যা এখনো শীতের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচিত।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, চলমান শৈত্যপ্রবাহ পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। তাই বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।