সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের জামায়াত-সমর্থিত এমপি গাজী নজরুল ইসলামের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার রাত থেকে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে একটি কক্ষে দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় জামায়াত নেতারা ওই তরুণীকে এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছেন। মঙ্গলবার সকালে দলটির জেলা শাখার […]
ছবি: সংগৃহীত
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের জামায়াত-সমর্থিত এমপি গাজী নজরুল ইসলামের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার রাত থেকে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে একটি কক্ষে দেখা যায়।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় জামায়াত নেতারা ওই তরুণীকে এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছেন। মঙ্গলবার সকালে দলটির জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, “ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। এমপি সাহেব আমাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এ বিয়ে হয়েছে।”
এ বিষয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও দিয়েছেন গাজী নজরুল ইসলাম। মঙ্গলবার দেওয়া ওই বিজ্ঞপ্তিতে তিনি দাবি করেন, ১৩ জুলাই তিনি প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা বেগম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে যান। সেখানে তারা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।
তার দাবি, এ সময় তার গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে চলে যান। পরে তিনি ৫-৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করে তাদের জিম্মি করে ১ লাখ টাকা আদায় করেন। পরবর্তীতে ভাড়াকৃত গাড়িটিও আটকে রেখে দফায় দফায় কয়েক লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
গাজী নজরুল ইসলাম আরও দাবি করেন, দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। পরে ওবায়দুল্লাহ তাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিওটিকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা হিসেবে প্রচার করছে। এটি মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেন তিনি।
গাজী নজরুল ইসলামের ভাষ্য, ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে মোছা. মরিয়ম বেগমের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। এ বিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ ঘটনায় সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নৈতিক চরিত্র ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে যারা অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন গাজী নজরুল ইসলাম।
এদিকে, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম এবং দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম আলাদাভাবে দেওয়া ভিডিও বিবৃতিতে দাবি করেছেন, পারিবারিকভাবেই মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।