যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরকে কেন্দ্র করে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিতব্য আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি উর্দু। আগামী ১৯ জুন জেনেভায় এই অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে নতুন কূটনৈতিক সমন্বয় ও ভবিষ্যৎ আলোচনার কাঠামো নির্ধারণের কারণে […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরকে কেন্দ্র করে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিতব্য আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি উর্দু।
আগামী ১৯ জুন জেনেভায় এই অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে নতুন কূটনৈতিক সমন্বয় ও ভবিষ্যৎ আলোচনার কাঠামো নির্ধারণের কারণে অনুষ্ঠানটি আর অনুষ্ঠিত হচ্ছে না বলে জানা গেছে।
পাকিস্তানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথমে বিবিসিকে জানান, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ তার নির্ধারিত জেনেভা সফর স্থগিত করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে, তার বাস্তবায়ন এবং পরবর্তী ধাপগুলো একটি বিস্তৃত কূটনৈতিক কাঠামোর অধীনে বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টের কিছু অংশ মুছে ফেললে অনুষ্ঠানটি নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। মুছে ফেলা অংশে উল্লেখ ছিল যে, পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে, যেখানে সমঝোতা উদযাপন এবং পরবর্তী আলোচনা প্রক্রিয়ার সূচনা করা হবে।
পরে পাকিস্তানের বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্র জানায়, সকাল পর্যন্ত অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা বহাল থাকলেও দিনের শেষে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। ফলে নির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক ইতোমধ্যেই স্বাক্ষরিত হওয়ায় আলাদা করে আনুষ্ঠানিক সই অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা কমে গেছে। এখন মূল গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে চুক্তির বাস্তবায়ন, প্রযুক্তিগত আলোচনা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর।
এই সমঝোতা প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরকারীদের একজন ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে ইসলামাবাদের এই ভূমিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অনুষ্ঠান বাতিল হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শুরু হওয়া নতুন কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। আগামী সপ্তাহগুলোতে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, নৌ চলাচল এবং নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আরও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সংঘাত ও উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন বাস্তবতার সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে চুক্তির বিভিন্ন শর্ত বাস্তবায়ন এবং পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের বিষয়গুলো এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।