সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বিনোদন
৬:৫৭ এএম, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

সোনাক্ষী সিনহা বিয়ে হলেও নিজেকে স্বামী জাহিরের বান্ধবী ভাবতেই ভালোবাসি

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহা সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনের কিছু গভীর অনুভূতি শেয়ার করেছেন। বিয়ের পরও তার জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি, তিনি এখনো নিজেকে স্বামী জাহির ইকবালের ‘বান্ধবী’ হিসেবেই ভাবেন। এই মনোভাব তার জীবনের এক অনন্য পরিচয় এবং এটি তার সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ করে। ২০১০ সালে ‘দাবাং’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন […]

সোনাক্ষী সিনহা বিয়ে হলেও নিজেকে স্বামী জাহিরের বান্ধবী ভাবতেই ভালোবাসি
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহা সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনের কিছু গভীর অনুভূতি শেয়ার করেছেন। বিয়ের পরও তার জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি, তিনি এখনো নিজেকে স্বামী জাহির ইকবালের ‘বান্ধবী’ হিসেবেই ভাবেন। এই মনোভাব তার জীবনের এক অনন্য পরিচয় এবং এটি তার সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ করে।

২০১০ সালে ‘দাবাং’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন সোনাক্ষী। শত্রুঘ্ন সিনহার কন্যা হিসেবে অভিনয়ের জগতে প্রবেশ করার পর থেকে তিনি নানা ধরনের চরিত্রে নিজেকে সাফল্যের সাথে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ‘রাজ্জো’ চরিত্রে তরুণ প্রজন্মের হৃদয় জয় করার পর ‘আকিরা’, ‘নুর’, ‘ডাবল এক্সএল’, ‘লুটেরা’, ‘দহাড়’ ও ‘হীরামান্ডি’ মতো ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন, যেগুলো তার শিল্পী হিসেবে বহুমাত্রিক পরিচিতি দিয়েছে।

এবার সোনাক্ষী নতুন এক অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন। প্রথমবারের মতো তিনি দক্ষিণ ভারতের তেলেগু চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করছেন। ছবির নাম ‘জটাধারা’, যা পরিচালনা করছেন ভেঙ্কট কল্যাণ ও অভিষেক জয়সোয়াল। এই নতুন যাত্রা নিয়ে সোনাক্ষীর উচ্ছ্বাস স্পষ্ট। ডেকান ক্রনিকলকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “১৫ বছর পর নতুন ভাষায় অভিনয়ের মাধ্যমে এক নতুন অনুভূতি পেয়েছি। ‘দাবাং’ ছবির সময়ের উত্তেজনা এখনো মনে আছে, আর ‘জটাধারা’ আমাকে সেই স্মৃতিতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে।”

‘জটাধারা’ ছবিতে সোনাক্ষী অভিনয় করেছেন ‘ধন পিশাচিনী’ চরিত্রে, যা পুরাণকথা, আধিভৌতিক ও থ্রিলারের মিশ্রণে গড়া। এই চরিত্রটি তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, কারণ এর আগে তিনি এমন এক শক্তিশালী ও রহস্যময় ভূমিকায় কাজ করেননি। নির্মাতারা তাকে এই চরিত্রের জন্য বেছে নেয়ায় তিনি গর্বিত। চরিত্রের জন্য মাত্র ১৫ দিনের প্রস্তুতি সময় পেয়েও সোনাক্ষী খুব মনোযোগ দিয়ে কাজটি সম্পন্ন করেছেন। পরিচালক ভেঙ্কট কল্যাণের সহজবোধ্য নির্দেশনায় ভাষার ভিন্নতা সত্ত্বেও কাজটি তার কাছে আনন্দদায়ক মনে হয়েছে।

সোনাক্ষী ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বলেছেন, বিয়ে তার জীবনে বড় কোনো পরিবর্তন এনে দেয়নি। তিনি এখনো নিজেকে স্বামী জাহিরের বান্ধবী ভাবেন, স্ত্রী হিসেবে নয়। এটি তার জন্য একটি বিশেষ অনুভূতি। পার্থক্য শুধু এটুকুই যে, এখন তিনি মা-বাবার বাড়ির পরিবর্তে জাহিরের সঙ্গে বসবাস করেন। পেশাগতভাবে তার কাজের ধারা আগের মতোই অব্যাহত রয়েছে, এমনকি বিয়ের পর জীবন আরও সুন্দর হয়েছে। জাহির তার সবচেয়ে বড় সমর্থক ও মানসিক শক্তি। ছোট ছোট বিষয়ে তার পরামর্শ নেন, যদিও মাঝে মাঝে একটু স্বাধীনতা চাওয়াও অনুভব করেন।

বিশ্লেষণ: সোনাক্ষীর এই মনোভাব নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

সোনাক্ষীর বিয়ের পর স্বামীকে বান্ধবী হিসেবে ভাবার বিষয়টি আধুনিক সম্পর্কের এক উদাহরণ, যেখানে ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের গুরুত্ব বেশি। এটি বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে একটি প্রেরণার উৎস হতে পারে, যারা সম্পর্ককে কেবল ঐতিহ্যবাহী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেন না। পেশাদার জীবনের সাথে ব্যক্তিগত জীবনের সুষমা বজায় রাখার তার উদাহরণ অনেকের জন্য শিক্ষণীয়।

তেলেগু সিনেমায় তার আত্মপ্রকাশ দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের ভক্তদের জন্যও নতুন আকর্ষণ তৈরি করবে। বিভিন্ন ভাষায় কাজ করার মাধ্যমে সোনাক্ষী তার কর্পোরেট ও সাংস্কৃতিক পরিসর বিস্তৃত করছেন, যা তার শিল্পী জীবনের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ‘জটাধারা’র মতো একটি থ্রিলার-আধারিত চরিত্র গ্রহণ করায় তার অভিনয় দক্ষতার বহুমাত্রিকতা প্রমাণিত হয়েছে।

সোনাক্ষীর এই গল্প আমাদের শেখায় যে, ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য রেখে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। তার মতো একজন সেলেব্রিটির জীবনের এই দিকটি জানার মাধ্যমে অনেকে নিজের সম্পর্ক ও ক্যারিয়ারে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি পেতে পারে। তাছাড়া, বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্রে কাজ করার মাধ্যমে শিল্পীরা কিভাবে নতুন সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন, তা উপলব্ধি করতে পারা যায়।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ