স্পেসএক্সের একটি পরিত্যক্ত ফ্যালকন-৯ রকেটের উপরের অংশ নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত হেনেছে। বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস অনুযায়ী সংঘটিত এ ঘটনাটি পৃথিবীর জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি না করলেও মহাকাশে বাড়তে থাকা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় চার টন ওজনের এই রকেট অংশটি ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল (প্রায় ৮ হাজার […]
ছবি: সংগৃহীত
স্পেসএক্সের একটি পরিত্যক্ত ফ্যালকন-৯ রকেটের উপরের অংশ নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত হেনেছে। বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস অনুযায়ী সংঘটিত এ ঘটনাটি পৃথিবীর জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি না করলেও মহাকাশে বাড়তে থাকা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় চার টন ওজনের এই রকেট অংশটি ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল (প্রায় ৮ হাজার ৭০০ কিলোমিটার) বেগে চাঁদে আঘাত করে। এটি ২০২৫ সালে দুটি বাণিজ্যিক চন্দ্রযান বহনকারী একটি ফ্যালকন-৯ মিশনের অব্যবহৃত উপরের ধাপ ছিল, যা উৎক্ষেপণের পর মহাকাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় থেকে যায়।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সংঘর্ষটি চাঁদের আইনস্টাইন ক্রেটারের কাছাকাছি এলাকায় ঘটেছে। যদিও খালি চোখে ঘটনাটি দেখা সম্ভব হয়নি, তবুও শক্তিশালী টেলিস্কোপে ধুলোর মেঘ ও সংঘর্ষের বিভিন্ন উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নাসার লুনার রিকনাইস্যান্স অরবিটার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার দানুরি মহাকাশযান ওই স্থানের ছবি বিশ্লেষণ করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি পৃথিবীর জন্য ক্ষতিকর নয়; বরং চাঁদের মাটি, সংঘর্ষের প্রভাব এবং কৃত্রিম বস্তু চাঁদে আঘাত করলে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে, সে বিষয়ে গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে এ ঘটনা মহাকাশ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। চাঁদ ও তার আশপাশের কক্ষপথে বিভিন্ন দেশের পরিত্যক্ত রকেট, মহাকাশযান ও যন্ত্রাংশের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ভবিষ্যতে চাঁদে আরও বেশি বৈজ্ঞানিক অভিযান এবং মানব মিশন পরিচালিত হলে এসব মহাকাশ বর্জ্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করছেন গবেষকরা।