হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ‘১০০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইরান ছাড়া অন্য দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ উন্মুক্ত রয়েছে এবং মার্কিন বাহিনী সেখানে মাইন অপসারণের কাজও শেষ করেছে। সোমবার (১০ আগস্ট) হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তাঁর দাবি, […]
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ‘১০০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইরান ছাড়া অন্য দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ উন্মুক্ত রয়েছে এবং মার্কিন বাহিনী সেখানে মাইন অপসারণের কাজও শেষ করেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এতটাই শক্তিশালী যে এটি ‘ইস্পাতের দেয়ালের’ মতো কাজ করছে।
ট্রাম্প বলেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর হাতে রয়েছে। তাঁর ভাষায়, মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ ‘অভেদ্য’ এবং ওয়াশিংটন এখন পুরো প্রণালিটি নিয়ন্ত্রণ করছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের জন্য নৌপথটি বন্ধ থাকলেও অন্যান্য দেশের জাহাজ চলাচলের জন্য এটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
হরমুজের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, মার্কিন বাহিনী পুরো নৌপথে মাইন অপসারণ বা ‘মাইন-সুইপিং’ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।
তবে হরমুজ প্রণালির সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে পরিস্থিতি এখনও জটিল। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কমে যাওয়ার কথা উঠে এসেছে। ফলে ট্রাম্পের ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ দাবিকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে সংযোগকারী হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। এ পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের বড় একটি অংশ চলাচল করে। ফলে প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা বা জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হলে তার প্রভাব আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের আগের সময়ের তুলনায় প্রণালি দিয়ে পারাপারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রাম্পের এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের মধ্যেই সামনে এলো। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে প্রণালিকে উন্মুক্ত রাখার দাবি করা হলেও তেহরানের অবস্থান এবং বাস্তব নৌ চলাচলের পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যাচ্ছে।
ফলে ট্রাম্পের ‘১০০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ’ দাবির পাশাপাশি এখন মূল প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—হরমুজ দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল কতটা স্বাভাবিক এবং এই নিয়ন্ত্রণ বাস্তবে কতটা কার্যকর।
হরমুজ নিয়ে এই টানাপোড়েন অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।