সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বাংলাদেশ
২:১৪ পিএম, ২ এপ্রিল ২০২৬

হাম এসেছে বজ্রপাতের মতো, প্রস্তুতি ছিল না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব হঠাৎ করেই বজ্রপাতের মতো দেখা দিয়েছে, যার জন্য আগাম প্রস্তুতি ছিল না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, সিপ্যাপ ও ভেন্টিলেটর সাপোর্ট বাড়ানো এবং চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর শিশু হাসপাতালে হামজনিত […]

হাম এসেছে বজ্রপাতের মতো, প্রস্তুতি ছিল না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব হঠাৎ করেই বজ্রপাতের মতো দেখা দিয়েছে, যার জন্য আগাম প্রস্তুতি ছিল না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, সিপ্যাপ ও ভেন্টিলেটর সাপোর্ট বাড়ানো এবং চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর শিশু হাসপাতালে হামজনিত নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় বাবল সিপ্যাপ ব্যবহারের ওপর প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একটি হাসপাতালের অবহেলা ও যোগাযোগ ঘাটতির কারণে অনেক শিশুর অকাল মৃত্যু হয়েছে, যা তাকে ব্যক্তিগতভাবে মর্মাহত করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এর আগে মহাখালীর সংক্রামকব্যাধি হাসপাতালে একটি সংকট তৈরি হলে রাতেই সেখানে গিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আইসিইউ সুবিধা ১৮ ঘণ্টার মধ্যে চালু করায় আর কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চিকিৎসা পেশায় কোনো ধরনের অবহেলা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। রোগীরা স্রষ্টার পর চিকিৎসকের ওপরই সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখেন, তাই দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ সতর্কতা জরুরি।

মন্ত্রী আরও জানান, শুধু ভেন্টিলেটর সংকটের কারণেই রাজশাহীতে ৩১টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি জানার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেখানে ভেন্টিলেটর সরবরাহ করা হয়েছে। একইসঙ্গে আরও কয়েকটি হাসপাতালে অতিরিক্ত ভেন্টিলেটর ও প্রয়োজনীয় সাপোর্ট পাঠানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ঢাকা, রাজশাহী, মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে হামের চিকিৎসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে ভেন্টিলেটর সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বক্তব্যে করোনাকালে চিকিৎসকদের ভূমিকারও প্রশংসা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলো যখন বিপর্যস্ত ছিল, তখন বাংলাদেশের চিকিৎসকেরা সাহসিকতার সঙ্গে রোগীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এমনকি অনেকে নিজের জীবনও উৎসর্গ করেছেন। জাতির জন্য তাদের সেই অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

হামের টিকাদান প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০১৮ সালের পর দেশে এককালীন ডোজভিত্তিক হাম টিকাদান ক্যাম্পেইন হয়নি। করোনাকালে অব্যয়িত ৬০৪ কোটি টাকা ব্যবহার করে ইউনিসেফের মাধ্যমে হামসহ অন্যান্য টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা হাতে পেতে প্রায় ৪৫ দিন লাগতে পারে।

এর মধ্যে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (গ্যাভি) থেকে বাংলাদেশ ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ হাম টিকা পাবে বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন ও পদমর্যাদা সংকটের বিষয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, টিকাদান কার্যক্রমে নিয়োজিত ১ হাজার ৩২৬ জন কর্মী গত ৯ মাস ধরে বেতন পাননি। এছাড়া ২৬ হাজার স্বাস্থ্য সহকারী ও ২৫ হাজার স্বাস্থ্য পরিদর্শকের গ্রেড পরিবর্তনের দাবিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের এই সংকটময় সময়ে তাদের সহযোগিতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। পাশাপাশি তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাসও দেন তিনি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ