রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর কেউই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ফলে তফসিল অনুযায়ী আগামী বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৪টা পর্যন্ত ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের […]
ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর কেউই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ফলে তফসিল অনুযায়ী আগামী বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৪টা পর্যন্ত ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় বৃহস্পতিবার দুই প্রার্থীর মধ্যেই ভোট হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ।
ইসি সচিব জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে ভোট গ্রহণ করা হবে। ভোটের জন্য ব্যালট পেপার মঙ্গলবারই প্রস্তুত করা হবে। ভোট গ্রহণের আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করবেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হচ্ছেন সংসদ সদস্যরা। সংরক্ষিত নারী আসনসহ সংসদে মোট সদস্যসংখ্যা ৩৫০ জন। তবে বিএনপির সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরীর সদস্যপদ আদালতের মাধ্যমে বাতিল হওয়ায় এবার মোট ভোটার ৩৪৯ জন।
ইসি সচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যালট পেপারের দুটি অংশ থাকবে। একটি অংশে থাকবে ক্রমিক নম্বর, সংসদ সদস্যের নাম ও বিভক্তি নম্বর। সংসদ সদস্য পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ব্যালট গ্রহণ করবেন। অপর অংশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম বাংলা বর্ণমালার আদ্যক্ষর অনুযায়ী সাজানো থাকবে। সংশ্লিষ্ট নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে স্বাক্ষর করে ভোট দিতে হবে। পরে ব্যালট নির্ধারিত বাক্সে জমা দিতে হবে।
বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। এরপর সংসদ কক্ষেই ব্যালট গণনা করা হবে। গণনা শেষে সেখানেই নির্বাচনী কর্তা ফল ঘোষণা করবেন। পরে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে। ব্যালট পেপারের রং হবে সাদার ওপর কালো মুদ্রণ।
দেশে সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯১ সালে। এরপর টানা সাতজন রাষ্ট্রপতি ক্ষমতাসীন দলের একক প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। বিরোধী দলগুলো কোনো প্রার্থী না দেওয়ায় ভোটের প্রয়োজন হয়নি।
ফলে এবার প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট হতে যাচ্ছে।
বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সংসদ সদস্য সংখ্যা ৯০ জন। এ কারণে সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাবে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যরা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারেন না। দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে সংসদ সদস্যপদ শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। ফলে ক্ষমতাসীন দলের সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে মির্জা ফখরুলের জয় নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। সেই সাংবিধানিক সময়সীমার মধ্যেই বৃহস্পতিবার ভোট গ্রহণের আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন।
দুই প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় ভোটের আনুষ্ঠানিকতা থাকছে। এখন বৃহস্পতিবার সংসদ সদস্যদের ভোট গ্রহণ ও গণনার পরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।