বর্তমান ডিজিটাল যুগে সামাজিক মাধ্যম শিক্ষাঙ্গনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও, এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এই প্রেক্ষাপটে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সম্প্রতি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে কঠোর সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা জারি করেছে। ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর, মাউশির সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) খালিদ হোসেন স্বাক্ষরিত অফিস আদেশের মাধ্যমে […]
বর্তমান ডিজিটাল যুগে সামাজিক মাধ্যম শিক্ষাঙ্গনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও, এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এই প্রেক্ষাপটে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সম্প্রতি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে কঠোর সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা জারি করেছে।
২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর, মাউশির সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) খালিদ হোসেন স্বাক্ষরিত অফিস আদেশের মাধ্যমে এই নির্দেশনা প্রকাশিত হয়। আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের জন্য ২০১৯ সালে গৃহীত ‘সামাজিক মাধ্যম নির্দেশিকা’ এবং ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। এই নির্দেশিকা ও অধ্যাদেশের অমান্য করা মানে হলো আচরণবিধি লঙ্ঘন, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
অফিস আদেশে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট, কমেন্ট বা তথ্য শেয়ার থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। এগুলো থেকে জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ক্ষতি হতে পারে। সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন হতে হবে এবং প্রয়োজন হলে জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিতে হবে।
এই নির্দেশনা দেশের সব সরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে পাঠানো হয়েছে, যাতে তারা তাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করেন। মাউশি এই আদেশের মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের সময় দায়িত্ব ও সতর্কতা অবলম্বন করা অপরিহার্য।
সামাজিক মাধ্যমের সঠিক ব্যবহার শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যখন সচেতনভাবে এই মাধ্যম ব্যবহার করবেন, তখন অনলাইন জগতে সাইবার অপরাধ কমবে এবং নিরাপদ শিক্ষাবাতাবরণ গড়ে উঠবে। তাই এই নির্দেশনাগুলো শুধু নিয়ম নয়, বরং একটি নিরাপদ ও সচেতন ডিজিটাল শিক্ষা পরিবেশ গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।