সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
৩:০৩ অপরাহ্ন, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক উত্তেজনা পুতিন-ট্রাম্প বৈঠক স্থগিতের পর বড় মহড়া

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে নির্ধারিত বৈঠক স্থগিত হওয়ার ঠিক পরের দিন রাশিয়া ব্যাপক পরিসরে পারমাণবিক মহড়া চালিয়েছে। বুধবার ক্রেমলিন থেকে জানানো হয়, এই মহড়ায় আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (ICBM) সফল পরীক্ষা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডেও আঘাত হানতে সক্ষম। রাশিয়ার সামরিক প্রধান জেনারেল ভ্যালেরি গেরাসিমভ মহড়ার বিস্তারিত প্রতিবেদন পুতিনকে উপস্থাপন করেন, […]

রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক উত্তেজনা পুতিন-ট্রাম্প বৈঠক স্থগিতের পর বড় মহড়া
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে নির্ধারিত বৈঠক স্থগিত হওয়ার ঠিক পরের দিন রাশিয়া ব্যাপক পরিসরে পারমাণবিক মহড়া চালিয়েছে। বুধবার ক্রেমলিন থেকে জানানো হয়, এই মহড়ায় আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (ICBM) সফল পরীক্ষা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডেও আঘাত হানতে সক্ষম।

রাশিয়ার সামরিক প্রধান জেনারেল ভ্যালেরি গেরাসিমভ মহড়ার বিস্তারিত প্রতিবেদন পুতিনকে উপস্থাপন করেন, এবং সেই ভিডিও ক্রেমলিন প্রকাশ করে। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পুতিন বারবার রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তিকে শক্তিশালী বলে তুলে ধরেন, যা পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা হিসেবে গণ্য হচ্ছে। অন্যদিকে, ন্যাটোও নিজেদের প্রতিরোধমূলক পারমাণবিক মহড়া চালিয়ে যাচ্ছে, যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।

গত সপ্তাহে পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যে ফোনালাপের পর হাঙ্গেরিতে একটি সম্মেলন হওয়ার সম্ভাবনা উভয় পক্ষ জানিয়েছিল। কিন্তু সোমবার দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আলোচনার পর হোয়াইট হাউস জানায়, এই বৈঠক আপাতত স্থগিত। ট্রাম্প নিজেও বলেছেন, “আমি বৃথা বৈঠক চাই না,” এবং রাশিয়াও অর্থবহ আলোচনার জন্য যথাযথ প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা জানিয়েছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, বৈঠকের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি, কারণ গভীর ও সময়সাপেক্ষ প্রস্তুতি প্রয়োজন। তবে বৈঠকের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে যে, শান্তি চুক্তির শর্ত হিসেবে ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস অঞ্চলের পুরো নিয়ন্ত্রণ রাশিয়ার হাতে হস্তান্তর করতে হবে। এটি ট্রাম্পের প্রস্তাবের পরিপন্থী, যেখানে তিনি দুই পক্ষকে বর্তমান ফ্রন্টলাইনের ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে এই অবস্থান জানানো হয়নি, তবে বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে এবং বড় কোনও বাধা দেখা যাচ্ছে না।

এদিকে, মঙ্গলবার রাতে রাশিয়া ও ইউক্রেন ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় একে অপরের ওপর। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, রুশ হামলায় কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় ছয়জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনের সেনাবাহিনী ফরাসি-ব্রিটিশ নির্মিত স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার ব্রায়ানস্ক অঞ্চলের একটি রাসায়নিক কারখানায় হামলা চালিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা খাতে শেয়ারমূল্য বেড়ে গেছে। ইউরোপের অধিকাংশ দেশ কিয়েভের প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়ে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আগামী বুধবার সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে বৈঠক করবেন, যেখানে অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সাবের কারখানায় আলোচনা হবে। জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার কূটনীতি নিয়ে অর্থবহ আলোচনা সম্ভব নয় যতক্ষণ না রুশ নেতৃত্ব প্রকৃত সমস্যার সম্মুখীন হয়, যা নিষেধাজ্ঞা, দূরপাল্লার অস্ত্র সরবরাহ ও অংশীদার দেশগুলোর সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সম্ভব।

রুশ হামলার কারণে ইউক্রেনজুড়ে জরুরি বিদ্যুৎবিভ্রাট চলছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা আন্তর্জাতিক সহযোগীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, শীতের আগেই অতিরিক্ত জ্বালানি সহায়তা প্রদান না হলে দেশটি মানবিক সংকটে পড়বে।

রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক মহড়ার এই উত্তেজনা কেবল দুটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তেজনা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে পারমাণবিক অস্ত্রের অস্তিত্ব এবং ব্যবহার নিয়ে আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। পুতিনের পারমাণবিক মহড়া পশ্চিমা জোট ন্যাটোকে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে কাজ করছে, যা ভবিষ্যতে পারমাণবিক প্রতিরক্ষা নীতিতে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা উন্মোচিত করছে।

ট্রাম্প ও পুতিনের বৈঠক স্থগিত হওয়া, এবং উভয় পক্ষের প্রস্তুতিমূলক অবস্থান, বিশ্ব রাজনীতিতে একটি অনিশ্চয়তার সংকেত বহন করছে। বৈঠক সফল হলে ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনা বাড়তে পারে, আর না হলে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাবে যা বিশ্ব বাজার, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

পাঠকদের জন্য এই পরিস্থিতি বোঝা জরুরি, কারণ এটি কেবল একটি দ্বিপাক্ষিক সংঘাত নয়, বরং আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় পরীক্ষা। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সচেতনতা ও সক্রিয় পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ