যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সিদ্ধান্তে ইসরাইলপন্থি বিভিন্ন লবিং সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগ ও যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাধাগ্রস্ত করতে ইসরাইলপন্থি কিছু মহল সক্রিয় ছিল। তার এই মন্তব্যের পর আবারও আলোচনায় এসেছে মার্কিন প্রশাসনে ইসরাইলপন্থি লবির প্রভাব। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সিদ্ধান্তে ইসরাইলপন্থি বিভিন্ন লবিং সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগ ও যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাধাগ্রস্ত করতে ইসরাইলপন্থি কিছু মহল সক্রিয় ছিল। তার এই মন্তব্যের পর আবারও আলোচনায় এসেছে মার্কিন প্রশাসনে ইসরাইলপন্থি লবির প্রভাব।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে নীতিনির্ধারণ শুধু হোয়াইট হাউস বা কংগ্রেসের মাধ্যমে হয় না। বিভিন্ন লবিং সংগঠন, নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (থিংক ট্যাংক), রাজনৈতিক অর্থায়ন, গণমাধ্যম, একাডেমিক প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সংগঠনও নীতিনির্ধারণে প্রভাব রাখে। এই কাঠামোর মধ্যেই কাজ করে ইসরাইলপন্থি বিভিন্ন সংগঠন।
সবচেয়ে পরিচিত সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে American Israel Public Affairs Committee (AIPAC)। এছাড়া American Jewish Committee (AJC), Anti-Defamation League (ADL), J Street, Christians United for Israel (CUFI), Zionist Organization of America (ZOA) এবং Conference of Presidents of Major American Jewish Organizations-ও বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্ক জোরদারে কাজ করে।
গবেষণা ও নীতিনির্ধারণে প্রভাব বিস্তারকারী থিংক ট্যাংকগুলোর মধ্যে Washington Institute for Near East Policy এবং Foundation for Defense of Democracies (FDD)-এর নামও উল্লেখযোগ্য।
মার্কিন কংগ্রেসের তথ্য অনুযায়ী, এসব সংগঠন কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, আইনপ্রণয়নে মতামত প্রদান, নিরাপত্তা সহযোগিতা, সামরিক সহায়তা এবং মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক নীতিতে সক্রিয় লবিং করে থাকে। পাশাপাশি জনমত গঠন, গবেষণা প্রকাশ, কূটনৈতিক সংলাপ এবং রাজনৈতিক সমর্থন তৈরিতেও তারা ভূমিকা রাখে।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইসরাইলপন্থি লবি অতীতে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মার্কিন নীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিশ্লেষণধর্মী প্ল্যাটফর্ম Counterfire-এর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন লবিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
তবে এ বিষয়ে গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক স্টিফেন ওয়াল্ট মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে ইসরাইলপন্থি বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কূটনীতিক ডেনিস রসের মতে, এসব সংগঠনের প্রভাব থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত নিজের জাতীয় ও কৌশলগত স্বার্থ বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়। তার ভাষায়, কোনো একক লবি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি নিয়ন্ত্রণ করে—এমন দাবি বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সাম্প্রতিক গাজা ও ইরান পরিস্থিতির পর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও ইসরাইলনীতি নিয়ে বিতর্ক বেড়েছে। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে আগের তুলনায় ভিন্নমত আরও দৃশ্যমান হয়েছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা, ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন, Counterfire, বেলফার সেন্টার ও মার্কিন কংগ্রেসের প্রকাশিত তথ্য।