সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

NYC
২:২০ অপরাহ্ন, ২৪ জুলাই ২০২৬

৮ বিলিয়ন ডলারে বদলে যাচ্ছে নিউইয়র্কের পেন স্টেশন, নাম বদলের আলোচনা

নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত পেন স্টেশনকে আধুনিক ও সম্প্রসারিত ট্রানজিট হাবে রূপ দিতে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্নির্মাণ প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার। প্রতিদিন লাখো যাত্রীর ব্যবহৃত এই গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনকে নতুনভাবে সাজানোর পাশাপাশি এর নাম পরিবর্তনের বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি কংগ্রেসের সিনেট কমিটির নেতাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে পেন […]

৮ বিলিয়ন ডলারে বদলে যাচ্ছে নিউইয়র্কের পেন স্টেশন, নাম বদলের আলোচনা

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত পেন স্টেশনকে আধুনিক ও সম্প্রসারিত ট্রানজিট হাবে রূপ দিতে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্নির্মাণ প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার। প্রতিদিন লাখো যাত্রীর ব্যবহৃত এই গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনকে নতুনভাবে সাজানোর পাশাপাশি এর নাম পরিবর্তনের বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

মার্কিন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি কংগ্রেসের সিনেট কমিটির নেতাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে পেন স্টেশনের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবকে প্রশাসনের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে নতুন নাম কী হবে, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

নাম পরিবর্তনের এই উদ্যোগ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ অতীতে শন ডাফি পেন স্টেশনের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার ধারণাকে ইতিবাচকভাবে দেখেছিলেন। একইভাবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটও এ ধরনের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করেননি।

তবে এখন পর্যন্ত পেন স্টেশনের নাম প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নামে রাখা হবে—এমন কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে নাম পরিবর্তনের পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য নতুন নাম—দুটি বিষয় এখনো আলাদা পর্যায়ে রয়েছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ পেন স্টেশন

পেন স্টেশন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যস্ত রেল যোগাযোগ কেন্দ্র। প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখের বেশি যাত্রী এই স্টেশন ব্যবহার করেন। এখান দিয়ে আমট্রাক, নিউ জার্সি ট্রানজিট এবং লং আইল্যান্ড রেল রোডের ট্রেন চলাচল করে। মার্কিন পরিবহন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এটি পশ্চিম গোলার্ধের সবচেয়ে ব্যস্ত ট্রানজিট হাব।

দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনটির নিচু ছাদ, সংকীর্ণ করিডোর, অতিরিক্ত ভিড় এবং জটিল চলাচলব্যবস্থা নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ রয়েছে। নতুন প্রকল্পের লক্ষ্য এসব সমস্যা দূর করে আরও উন্মুক্ত, আধুনিক ও সহজে ব্যবহারযোগ্য স্টেশন নির্মাণ।

নতুন প্রকল্পে যা থাকছে

পরিকল্পনা অনুযায়ী—

  • এইটথ অ্যাভিনিউমুখী নতুন প্রধান প্রবেশপথ ও ট্রেন হল নির্মাণ করা হবে।
  • যাত্রী চলাচলের পথ আরও প্রশস্ত ও সহজ করা হবে।
  • অপেক্ষার জায়গা বাড়ানো হবে।
  • স্টেশনের ভেতরে আলোকসজ্জা ও দৃশ্যমানতা উন্নত করা হবে।
  • প্রথমবার আসা যাত্রীও যেন সহজে প্ল্যাটফর্ম ও বের হওয়ার পথ খুঁজে পান, সেইভাবে নকশা করা হবে।

বর্তমান অবস্থানেই থাকবে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন এবং নির্মাণকাজ চলাকালেও রেলসেবা চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শেষ দিকে মূল নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন

২০২৬ সালের মে মাসে Penn Transformation Partners-কে প্রকল্পের মাস্টার ডেভেলপার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। হালমার ও স্কানস্কার নেতৃত্বে গঠিত এই যৌথ উদ্যোগ পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

ফেডারেল সরকার ইতোমধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের কাজের জন্য ৪৩ মিলিয়ন ডলার এবং পরে নকশা ও অনুমোদন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে আরও ২০০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে।

‘পেন স্টেশন’ নামের ইতিহাস

স্টেশনটির নাম কোনো ব্যক্তির নামে নয়। এটি এসেছে Pennsylvania Railroad থেকে, যারা ১৯১০ সালে ঐতিহাসিক Pennsylvania Station নির্মাণ করেছিল।

বিশাল ও নান্দনিক সেই ভবনটি ১৯৬৩ সালে ভেঙে ফেলা হয় এবং পরে ওই স্থানে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে স্টেশনের বড় অংশ ভূগর্ভে অবস্থিত। নতুন নকশায় ঐতিহাসিক স্থাপত্যের কিছু বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিতর্ক

নাম পরিবর্তনের উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য জেরি ন্যাডলার। সমালোচকদের মতে, যাত্রীসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নের চেয়ে রাজনৈতিক প্রতীক তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, তাদের মূল লক্ষ্য দীর্ঘদিনের সমস্যাগ্রস্ত পেন স্টেশনকে বিশ্বমানের ট্রানজিট হাবে রূপ দেওয়া।

বর্তমানে নিশ্চিত বিষয় দুটি হলো—প্রথমত, প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের পুনর্নির্মাণ প্রকল্প এগিয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, স্টেশনের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। তবে নতুন নাম কী হবে বা সেখানে ট্রাম্পের নাম যুক্ত হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ