নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলগুলোতে তৃতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির ৪০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী পড়া ও গণিতের মান নির্ধারণী পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা দেখাতে পারেনি। তবুও গত শিক্ষাবর্ষে এসব শিক্ষার্থীর প্রায় সবাইকে পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে। একই শ্রেণিতে রেখে দেওয়া হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থীকে। নিউইয়র্ক সিটির শিক্ষা বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় থেকে অষ্টম […]
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলগুলোতে তৃতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির ৪০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী পড়া ও গণিতের মান নির্ধারণী পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা দেখাতে পারেনি। তবুও গত শিক্ষাবর্ষে এসব শিক্ষার্থীর প্রায় সবাইকে পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে। একই শ্রেণিতে রেখে দেওয়া হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থীকে।
নিউইয়র্ক সিটির শিক্ষা বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির প্রায় ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী শ্রেণিতে ওঠার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে পারেনি। তবে পর্যালোচনার পর তাদের অধিকাংশকেই শেষ পর্যন্ত পরবর্তী শ্রেণিতে পাঠানো হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক অভিভাবক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞ। অভিভাবকদের সংগঠন প্যারেন্ট লিডার্স ফর অ্যাক্সেলারেটেড কারিকুলাম এডুকেশন-এর সহসভাপতি জিন হান বলেন, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত দক্ষতা অর্জন না করেই শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে তুলে দেওয়া হলে ভবিষ্যতে তাদের শেখার ঘাটতি আরও বাড়তে পারে।
তবে নিউইয়র্ক সিটির শিক্ষা বিভাগ বলছে, শিক্ষার্থীদের শ্রেণি উন্নীত করার সিদ্ধান্ত শুধু মান নির্ধারণী পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করে নেওয়া হয় না। শিক্ষার্থীর রিপোর্ট কার্ড, শ্রেণিকক্ষের পারফরম্যান্স, শিক্ষক মূল্যায়ন, কোর্সওয়ার্ক এবং সার্বিক একাডেমিক অগ্রগতি বিবেচনায় নেওয়া হয়।
শিক্ষা বিভাগের এক মুখপাত্র জানান, কোনো শিক্ষার্থী নির্ধারিত শিক্ষাগত মান কতটা অর্জন করেছে, তা মূল্যায়নের জন্য একাধিক সূচক ব্যবহার করা হয়। শুধু একটি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হয় না।
শিক্ষার্থীদের একই শ্রেণিতে রেখে দেওয়ার হার গত এক দশকে ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০১৪ সালে তৎকালীন মেয়র বিল ডি ব্লাসিওর প্রশাসন একটি নীতি চালু করে, যার মাধ্যমে শ্রেণি উন্নীত করার ক্ষেত্রে মান নির্ধারণী পরীক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য একাডেমিক মূল্যায়নকেও গুরুত্ব দেওয়া শুরু হয়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১০ সালে নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলগুলোতে প্রায় ৯ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষার্থী ছিল এবং সে সময় প্রায় ১ দশমিক ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থীকে একই শ্রেণিতে রাখা হয়েছিল। গত শিক্ষাবর্ষে সেই হার কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশে।
এ নিয়ে আবারও বিতর্ক শুরু হয়েছে নিউইয়র্কের শিক্ষা মহলে। সমালোচকদের মতে, প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন না করেই শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে পাঠানো হলে শেখার ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে শিক্ষা বিভাগের দাবি, শিক্ষার্থীর সামগ্রিক একাডেমিক অগ্রগতি বিবেচনায় নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পদ্ধতি।