রাশিয়ার জ্বালানি খাতের আয় আটকে ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোর অর্থের যোগান বন্ধ করতে এক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। এই নতুন আইনের আওতায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাশিয়া থেকে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস ক্রয়কারী শীর্ষ পাঁচ দেশ—বিশেষ করে ভারত ও চীনের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি আকস্মিক মৃত্যুবরণ করা প্রবীণ […]
রাশিয়ার জ্বালানি খাতের আয় আটকে ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোর অর্থের যোগান বন্ধ করতে এক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। এই নতুন আইনের আওতায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাশিয়া থেকে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস ক্রয়কারী শীর্ষ পাঁচ দেশ—বিশেষ করে ভারত ও চীনের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি আকস্মিক মৃত্যুবরণ করা প্রবীণ সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের তৈরি করা এই দ্বিদলীয় বিলটি সিনেটে ৮৬–১২ ভোটের বিশাল ব্যবধানে অনুমোদন পায়। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের অভূতপূর্ব সমর্থনে পাস হওয়া এ বিলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পেরও সরাসরি সায় রয়েছে। সিনেটর গ্রাহামের স্মরণে আয়োজিত সভার দিনই ক্যাপিটল হিলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কির উপস্থিতিতে বিলটি সিনেটের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তোলা হয়।
অনুমোদিত বিলটিতে শুধু তেল আমদানিকারক দেশই নয়, বরং রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তা, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী (অলিগার্ক), আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং মস্কোর তেল রফতানি সহজ করতে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লীট’ বা গোপন জাহাজগুলোর ওপরও নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ অনুরোধে এতে ইরানের জ্বালানি ও সামরিক খাতে অর্থায়ন বন্ধে আগের বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়ানোর ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে যেসব দেশ রাশিয়া থেকে ১৫ শতাংশের কম প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করে এবং ধীরে ধীরে এই নির্ভরতা কমানোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে বিলে কিছুটা ছাড় বা ব্যতিক্রমী সুযোগ রাখা হয়েছে।
রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির বিষয়ে দ্বিদলীয় ঐকমত্য থাকলেও, কিছু ডেমোক্র্যাট সদস্য এই শুল্ক ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, ট্রাম্পকে সরাসরি এই অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হলে তা যুক্তরাষ্ট্রে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঘটাতে পারে এবং ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
সিনেটে পাসের পর বিলটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) পাঠানো হবে। তবে প্রতিনিধি পরিষদ বর্তমানে গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে থাকায় আগামী সেপ্টেম্বরের আগে আইনটি চূড়ান্ত রূপ পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
সূত্র: এনডিটিভি