যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে একাধিক শিশুকে দীর্ঘ সময় ধরে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে ৪২ বছর বয়সী স্টিফেন চার্লসকে গ্রেপ্তার করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)। তদন্তকারীদের দাবি, কয়েক বছর ধরে একাধিক অপ্রাপ্তবয়স্ক ভুক্তভোগীকে লক্ষ্য করে এসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। গুরুতর একাধিক অভিযোগ এনওয়াইপিডির তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার ব্রঙ্কস থেকে স্টিফেন চার্লসকে আটক করা হয়। পরে […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে একাধিক শিশুকে দীর্ঘ সময় ধরে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে ৪২ বছর বয়সী স্টিফেন চার্লসকে গ্রেপ্তার করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)। তদন্তকারীদের দাবি, কয়েক বছর ধরে একাধিক অপ্রাপ্তবয়স্ক ভুক্তভোগীকে লক্ষ্য করে এসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
এনওয়াইপিডির তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার ব্রঙ্কস থেকে স্টিফেন চার্লসকে আটক করা হয়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে শিশুদের ওপর শিকারি ধরনের যৌন হামলা (Predatory Sexual Assault), একাধিক শিশুকে ধর্ষণ, গুরুতর যৌন নিপীড়ন, শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করা, অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন কর্মকাণ্ডে ব্যবহার এবং শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত আপত্তিকর উপাদান সংরক্ষণ ও প্রচারের অভিযোগ রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ব্রঙ্কসের একাধিক স্থানে এসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীদের মধ্যে ১০, ১১, ১৩, ১৬ ও ১৮ বছর বয়সী কয়েকজন কিশোর এবং ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী রয়েছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রত্যেক ভুক্তভোগীর সঙ্গে অভিযুক্তের পূর্বপরিচয় ছিল।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযোগে উল্লেখিত ঘটনাগুলোর অন্তত একটি ব্রঙ্কসের মরিস ও ওয়াটসন অ্যাভিনিউ এলাকার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে (Shelter Home) ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বাকি ঘটনাগুলোও ব্রঙ্কসের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছে এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও সহায়তায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছে।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, স্টিফেন চার্লসের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (Charge Sheet) দাখিল করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাঁকে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করা হবে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, আদালতে অভিযোগ গঠন বা গ্রেপ্তার হওয়া মানেই কোনো ব্যক্তি দোষী প্রমাণিত হয়েছেন—এমন নয়। আদালতে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই তাঁর অপরাধ বা নির্দোষ হওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।