যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করেছে পাকিস্তান। এরই অংশ হিসেবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে ইসলামাবাদ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে পাকিস্তান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তুরস্কের সরকারি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। বাঘেই জানান, […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করেছে পাকিস্তান। এরই অংশ হিসেবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে ইসলামাবাদ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে পাকিস্তান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তুরস্কের সরকারি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
বাঘেই জানান, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আরাঘচি ও গালিবাফকে সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। উপযুক্ত সময়ে তারা ইসলামাবাদে যাবেন। তবে সম্ভাব্য সফরের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো জানানো হয়নি।
ইরানের মুখপাত্রের ভাষ্য, প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। পারস্পরিক সফর ও বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় সেই সম্পর্কের স্বাভাবিক অংশ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ ও সমঝোতার পথ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে আসছে। নতুন করে ইরানের দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকেই আরও এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে যৌথ সামরিক হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাল্টা জবাবে ইরান ওই অঞ্চলের কয়েকটি দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত কমাতে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেয় পাকিস্তান। ইসলামাবাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতি এবং জুনে একটি কাঠামোগত চুক্তির পথ তৈরি হয়েছিল।
তবে পরবর্তী সময়ে সেই সমঝোতা ভেঙে যায়। এর পর প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দুই দেশ পরস্পরের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালায়। এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
পরিস্থিতি যখন আরও জটিল হয়ে উঠছিল, তখন আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের সম্ভাবনা সামনে আসে। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করে বোমাবর্ষণ বন্ধের ঘোষণা দেন।
এখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পার্লামেন্টের স্পিকারকে ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানানোর মাধ্যমে পাকিস্তান আবারও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে সক্রিয় হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইরানের পক্ষ থেকেও আমন্ত্রণ গ্রহণের বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে আরাঘচি ও গালিবাফ ঠিক কবে পাকিস্তান সফর করবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।