মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাটালি হার্পকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের পাশে নিয়মিত উপস্থিতি, তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট তৈরিতে সহায়তা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সফরে সঙ্গী হওয়ায় ৩৫ বছর বয়সী এই কর্মকর্তা এখন হোয়াইট হাউসের পরিচিত মুখ। তবে তার সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, […]
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাটালি হার্পকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের পাশে নিয়মিত উপস্থিতি, তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট তৈরিতে সহায়তা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সফরে সঙ্গী হওয়ায় ৩৫ বছর বয়সী এই কর্মকর্তা এখন হোয়াইট হাউসের পরিচিত মুখ। তবে তার সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
সম্প্রতি জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প ও হার্পকে নিয়ে মন্তব্য করলে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। তিনি ট্রাম্পের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনার পাশাপাশি হার্পের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গও তোলেন। অসফের বক্তব্যের পর হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
হার্পের বয়স ৩৫ বছর এবং ট্রাম্পের বয়স ৮০ বছর। হোয়াইট হাউসে তার আনুষ্ঠানিক পদ প্রেসিডেন্টের স্পেশাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট। তবে তার কাজ সাধারণ প্রশাসনিক দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ট্রাম্পের কাছে সংবাদ প্রতিবেদন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও বিভিন্ন তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
ক্যালিফোর্নিয়ায় বেড়ে ওঠা হার্প প্রথমবার জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পান নিজের ক্যানসার চিকিৎসার অভিজ্ঞতার কারণে। তিনি দাবি করেছেন, ট্রাম্প সমর্থিত ‘রাইট টু ট্রাই’ আইনের মাধ্যমে পরীক্ষামূলক চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। ২০২০ সালের রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে বক্তব্য দিয়ে ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
এরপর ট্রাম্পের রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। ২০২০ সালের নির্বাচনী প্রচারে তিনি ট্রাম্পের উপদেষ্টা বোর্ডে যুক্ত হন। ট্রাম্প নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম ওয়ান আমেরিকা নিউজ নেটওয়ার্কে (ওএএন) কাজ করেন। পরে ২০২২ সালে ট্রাম্পের পরবর্তী নির্বাচনী প্রচারে যোগ দেন এবং ধীরে ধীরে তার ঘনিষ্ঠ বৃত্তে জায়গা করে নেন।
ট্রাম্প মুদ্রিত কাগজে বিভিন্ন প্রতিবেদন ও তথ্য দেখতে পছন্দ করেন। এ কারণে হার্পকে প্রায়ই একটি বহনযোগ্য প্রিন্টার নিয়ে তার পাশে দেখা যায়। ট্রাম্পের জন্য সংবাদ প্রতিবেদন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও অন্যান্য তথ্য প্রিন্ট করে দেওয়ার কারণে তাকে ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ নামে ডাকা হয়।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প কোন তথ্য আগে দেখবেন, সেটিতেও হার্পের ভূমিকা রয়েছে। ফলে তাকে শুধু ব্যক্তিগত সহকারী নয়, প্রেসিডেন্টের কাছে তথ্য পৌঁছানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একজন ‘গেটকিপার’ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে।
ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টের পোস্ট তৈরিতেও হার্প সহায়তা করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাকে একাধিকবার ট্রাম্পের পাশে বসে তার বক্তব্যের ভাষা ও ভঙ্গিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট প্রস্তুত করতে দেখা গেছে।
এ কারণে হোয়াইট হাউসে তার প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। ট্রাম্পের সমর্থকেরা তাকে প্রেসিডেন্টের বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে দেখলেও সমালোচকেরা তার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
হার্পকে ঘিরে সাম্প্রতিক আলোচনার আরেকটি কারণ তুরস্ক সফরের সময় ট্রাম্পের নিরাপত্তাজনিত কারণে গোপনে বিমান পরিবর্তনের ঘটনা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য ইরানি হামলার আশঙ্কার মধ্যে ট্রাম্প একটি ছোট দলের সঙ্গে আলাদা বিমানে তুরস্ক ছাড়েন। সেই দলে হার্পও ছিলেন।
এই ঘটনাকে সামনে রেখেই সিনেটর অসফ ট্রাম্পের সমালোচনা করেন এবং হার্পের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গ তোলেন। তবে এ নিয়ে যে ব্যক্তিগত সম্পর্কের জল্পনা তৈরি হয়েছে, তার পক্ষে কোনো নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।
হার্পের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি তথ্য নেই। বিভিন্ন প্রতিবেদন ও সাক্ষাৎকারে তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি হোয়াইট হাউসে কাজ করার স্বপ্ন দেখতেন।
তার ভাই প্রেস্টন হার্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের প্রতি তার বোনের গভীর আনুগত্যের পেছনে রয়েছে নিজের জীবন বাঁচাতে ট্রাম্পের নীতির ভূমিকা রয়েছে—এমন তার ব্যক্তিগত বিশ্বাস।
নাটালি হার্পকে ঘিরে বর্তমান আলোচনা মূলত তার রাজনৈতিক ভূমিকা ও ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার দৃশ্যমানতা নিয়ে। ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়ে নানা জল্পনা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা প্রমাণিত নয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে তার দৃশ্যমান উপস্থিতি এবং প্রেসিডেন্টের কাছে তথ্য ও বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ভূমিকা তাকে হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগীদের একজন করে তুলেছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি