সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
১:১৪ অপরাহ্ন, ২৭ আগস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের ৯/১১ হামলার মামলার বিচার শুরু ২০২৮ সালে

যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচার ২০২৮ সালে শুরু হতে যাচ্ছে। হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত খালিদ শেখ মোহাম্মদ এবং তার তিন সহযোগীর বিচার ২০২৮ সালের ৫ জুন শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন বিমান বাহিনীর একজন বিচারক। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) মার্কিন বিমান বাহিনীর […]

যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের ৯/১১ হামলার মামলার বিচার শুরু ২০২৮ সালে

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচার ২০২৮ সালে শুরু হতে যাচ্ছে। হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত খালিদ শেখ মোহাম্মদ এবং তার তিন সহযোগীর বিচার ২০২৮ সালের ৫ জুন শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন বিমান বাহিনীর একজন বিচারক। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) মার্কিন বিমান বাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাইকেল শ্রামার বিচার-সময়সূচি নির্ধারণের আদেশ জারি করেন। সেখানে বলা হয়, খালিদ শেখ মোহাম্মদ, ওয়ালিদ বিন আত্তাশ, আলী আব্দুল আজিজ আলী এবং মুস্তফা আল-হাউসাভির সামরিক ট্রাইব্যুনালে বিচার ওই তারিখে শুরু হবে।

এর আগে প্রসিকিউটররা ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে বিচার শুরুর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে মামলার বিভিন্ন বিচারপূর্ব আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি এবং কোন কোন প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা যাবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আরও সময় প্রয়োজন হওয়ায় বিচারক নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করেছেন।

মামলার চার আসামিই বর্তমানে কিউবার গুয়ান্তানামো বে-তে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আটক রয়েছেন। খালিদ শেখ মোহাম্মদকে ৯/১১ হামলার পরিকল্পনায় অন্যতম প্রধান ব্যক্তি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। ওই দিন চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করা হয়েছিল। এর মধ্যে দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে আঘাত হানে। আরেকটি বিমান আঘাত করে ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে। চতুর্থ বিমানটি যাত্রীদের প্রতিরোধের মুখে পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়। এসব হামলায় প্রায় তিন হাজার মানুষ নিহত হন।

হামলার ঘটনায় খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে। ২০০৩ সালে তাকে আটক করা হয়। তার সঙ্গে মামলার অন্য আসামিরাও দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন হেফাজতে রয়েছেন। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে এখনো চূড়ান্ত বিচার বা রায় হয়নি।

দীর্ঘ এই বিচারপ্রক্রিয়ার অন্যতম বড় জটিলতা হিসেবে সামনে এসেছে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের পদ্ধতি। গ্রেপ্তারের পর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর গোপন কারাগারে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। সেখানে ওয়াটারবোর্ডিংসহ বিভিন্ন কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ পদ্ধতি ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

এসব পদ্ধতিতে পাওয়া তথ্য ও স্বীকারোক্তি সামরিক আদালতে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য কি না, তা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে আইনি বিতর্ক চলছে। মামলার বিচারপূর্ব শুনানির বড় একটি অংশজুড়েই এ ধরনের প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

২০২৪ সালে আসামিদের সঙ্গে একটি সমঝোতার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। ওই প্রস্তাব অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে আমৃত্যু কারাদণ্ডের বিনিময়ে তারা দোষ স্বীকার করতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু পরে রাজনৈতিক বিতর্ক এবং হামলায় নিহতদের স্বজনদের আপত্তির পর সেই সমঝোতা বাতিল হয়ে যায়। ফলে মামলাটি আবার পূর্ণাঙ্গ বিচারের দিকে ফিরে যায়।

বেসামরিক আদালতের বদলে গুয়ান্তানামো বে-তে বিশেষ সামরিক আদালতে বিচার পরিচালনার সিদ্ধান্তও মামলাটিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আদালতের এখতিয়ার, বিচারপ্রক্রিয়া এবং প্রমাণ গ্রহণের নিয়ম নিয়ে বিভিন্ন সময়ে একাধিক আইনি চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, বিচার শুরুর আগে সব বিচারপূর্ব আইনি বিষয় নিষ্পত্তি করা সম্ভব হলে ২০২৮ সালের ৫ জুন এই মামলার বিচার শুরু হবে। তবে অতীতে একাধিকবার বিচার শুরুর সময় নির্ধারণ করেও তা পিছিয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত তারিখে বিচার শুরু হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো রয়েছে।

৯/১১ হামলার প্রায় ২৭ বছর পর বিচার শুরুর এই উদ্যোগ ভুক্তভোগীদের পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট মহলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। দীর্ঘসূত্রতার কারণে হামলায় নিহত অনেকের বাবা-মা ও বয়োজ্যেষ্ঠ স্বজন ইতোমধ্যে মারা গেছেন; অনেকে বিচারপ্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফল দেখার সুযোগও পাননি।

সূত্র: রয়টার্স

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ