নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়েছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় এখনও ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। একই সঙ্গে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সুড়ঙ্গে আটকে পড়া অন্তত ৫০০ শ্রমিককে উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। সোমবার (৩১ আগস্ট) নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, দেশটিতে বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৯২ জন […]
ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়েছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় এখনও ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। একই সঙ্গে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সুড়ঙ্গে আটকে পড়া অন্তত ৫০০ শ্রমিককে উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
সোমবার (৩১ আগস্ট) নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, দেশটিতে বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন মোট ৪ হাজার ২৪৭ জন।
এদিকে, রোববার (৩০ আগস্ট) পর্যন্ত চীনা কর্তৃপক্ষ তিব্বত এলাকায় বন্যায় ১৬ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। একই সঙ্গে ৫৪৬ জন নিখোঁজ থাকার কথাও জানানো হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক এবং তাদের মধ্যে শতাধিক নেপালি রয়েছেন।
নেপালের রাসুওয়া ও নুয়াকোট জেলার বন্যাকবলিত ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অন্তত ৯০০ শ্রমিকের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর একটি বেসরকারি সংগঠন।
নেপালের ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (আইপিপিএএন) সভাপতি মোহন কুমার দাঙ্গি বলেন, নিখোঁজ ৯০০ শ্রমিকের মধ্যে অন্তত ৫০০ জন সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের উদ্ধারে কয়েকটি বিদেশি দলও নেপালি উদ্ধারকারীদের সঙ্গে কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, গত বুধবার ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানার সময় কিছু শ্রমিক পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং সাহায্যের জন্য ফোন করেছিলেন। যারা পরে জীবিত অবস্থায় বেরিয়ে আসতে পেরেছেন, তাদের কেউ কেউ কর্তৃপক্ষ ও স্বজনদের জানিয়েছেন, তাদের অনেক সহকর্মী এখনো সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা রয়েছেন।
তবে দুর্যোগের ষষ্ঠ দিনে এসে সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের অনেকেই অক্সিজেনের অভাবে মারা গিয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য না পাওয়ায় উদ্বেগও বাড়ছে।
নেপালের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজা রাম বাসনেত বলেন, পাহাড়ি এলাকা, বসতি এবং নদীতীরবর্তী অঞ্চলে আটকে পড়া মানুষের সন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
বন্যার পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও অন্যান্য দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।
নেপালের ভয়াবহ এই দুর্যোগে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকায় উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।