সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বাংলাদেশ
৩:২৬ অপরাহ্ন, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুবাইয়ে সম্পদ নিয়ে ৭৩ বাংলাদেশির তথ্য চেয়েছে দুদক

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ৭৩ বাংলাদেশির বিষয়ে অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ বিষয়ে তদন্ত এগিয়ে নিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারের কাছে তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথি চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি। দুদক সূত্র জানিয়েছে, জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের (ইউএনসিএসি) আওতায় মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে আর্থিক ও দুর্নীতিসংক্রান্ত […]

দুবাইয়ে সম্পদ নিয়ে ৭৩ বাংলাদেশির তথ্য চেয়েছে দুদক

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ৭৩ বাংলাদেশির বিষয়ে অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ বিষয়ে তদন্ত এগিয়ে নিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারের কাছে তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথি চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের (ইউএনসিএসি) আওতায় মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে আর্থিক ও দুর্নীতিসংক্রান্ত তদন্তে এক দেশের কাছ থেকে অন্য দেশের তথ্য ও নথি সংগ্রহে এই প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়।

তদন্তে সংশ্লিষ্ট ৭৩ বাংলাদেশির কয়েকজনের দুবাইয়ের অভিজাত এলাকা দুবাই মেরিনা ও পাম জুমেইরাহতে ফ্ল্যাট ও বাড়ি থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সংযুক্ত আরব আমিরাতের গোল্ডেন ভিসাও নিয়েছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আখতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুবাইয়ে অর্থপাচারের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে তথ্য চেয়ে তদন্তকারী দল বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে চিঠি দিয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সংস্থা থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে ৭৩ ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করেছে দুদক। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী অনুসন্ধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

দুদকের উপপরিচালক আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে বিশেষ একটি দল এ অনুসন্ধান পরিচালনা করছে।

দুবাইয়ে সম্পদের অভিযোগে কারা আছেন

অনুসন্ধানের তালিকায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, সাবেক প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল এবং সাবেক পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাতসহ মোট ৭৩ জন রয়েছেন।

তবে তদন্ত চলমান থাকায় এসব ব্যক্তির পেশাগত পরিচয় বা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিস্তারিত পৃথকভাবে প্রকাশ করেনি দুদক।

এখানে উল্লেখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান চলছে—এটি অভিযোগের তদন্তের অংশ। অনুসন্ধান বা তদন্ত চলমান থাকা মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এমন নয়।

৪৫৯ বাংলাদেশির সম্পদের অভিযোগ থেকে অনুসন্ধানের শুরু

দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের সম্পদ নিয়ে এই অনুসন্ধানের সূত্রপাত হয় সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশনার পর। ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি দুদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশি নাগরিকের সম্পদ থাকার অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত।

সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজ (সিফোরএডিএস) ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ট্যাক্স অবজারভেটরির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল পর্যন্ত দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশির মালিকানায় ৯৭২টি সম্পত্তির তথ্য পাওয়া যায়। এসব সম্পত্তির নথিভুক্ত মূল্য ছিল প্রায় ৩১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২২ সালের মে মাসে প্রকাশিত সিফোরএডিএসের এক গবেষণায় সম্পত্তিগুলোর মূল্য প্রায় ৩১৫ মিলিয়ন ডলার বলা হয়েছিল।

গবেষণায় আরও বলা হয়, তালিকাভুক্ত সম্পত্তির মধ্যে ৬৪টি দুবাই মেরিনা ও ১৯টি পাম জুমেইরাহ এলাকায় রয়েছে। বাংলাদেশিদের মালিকানায় অন্তত ১০০টি ভিলা ও পাঁচটি ভবনের তথ্যও পাওয়া যায়।

এ ছাড়া চার-পাঁচজন বাংলাদেশির সঙ্গে প্রায় ৪৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পত্তির যোগসূত্র থাকার কথাও ওই গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছিল।

এখন নতুন করে ৭৩ বাংলাদেশির সম্পদ ও অর্থের উৎস নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান সামনে আসায় দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন সম্পদের প্রকৃত উৎস ও বৈধতা নিয়ে তদন্ত আরও জোরালো হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ