উন্নয়নশীল অর্থনীতির জোট ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে। দুই দিনের এই সম্মেলন চলবে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠেয় সম্মেলনের মূল আয়োজন হবে নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইতোমধ্যে […]
ছবি: সংগৃহীত
উন্নয়নশীল অর্থনীতির জোট ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে। দুই দিনের এই সম্মেলন চলবে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠেয় সম্মেলনের মূল আয়োজন হবে নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইতোমধ্যে দিল্লিতে পৌঁছেছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিসহ ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর নেতারা এতে অংশ নিচ্ছেন।
বিশ্বনেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নয়াদিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও ভিভিআইপি রুটে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। সম্মেলনস্থল ও নেতাদের যাতায়াতের পথে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পাশাপাশি উচ্চপ্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
এবারের ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের সংঘাতের পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি এসব আন্তর্জাতিক সংকটও সম্মেলনের আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
ব্রিকস দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো, আর্থিক সহযোগিতা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনে বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থার মতো বিষয়ও আলোচনায় থাকতে পারে। মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নিয়েও জোটটির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।
এদিকে, সম্মেলনের আগে শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, মহাকাশ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যমান মতপার্থক্যগুলো যথাযথভাবে সামাল দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
১১ সদস্যের ব্রিকস জোটের এবারের সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর পাশাপাশি অংশীদার দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও অংশ নিচ্ছেন। বৈশ্বিক অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি ও ভূরাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লির এই সম্মেলনের দিকে আন্তর্জাতিক মহলের বিশেষ নজর রয়েছে।