সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বাংলাদেশ
২:৩৪ অপরাহ্ন, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে হুট করে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র অচল, আরও বাড়ল লোডশেডিং

দেশে বিদ্যুৎ সংকট আবারও তীব্র হচ্ছে। একদিকে গরমের মধ্যে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে কারিগরি ত্রুটি ও জ্বালানি সংকটে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে পড়ায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে লোডশেডিং। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টার বিদ্যুৎ পরিস্থিতির প্রতিবেদনে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা দেখানো হয় ১৬ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে উৎপাদন ছিল ১২ […]

দেশে হুট করে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র অচল, আরও বাড়ল লোডশেডিং

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

দেশে বিদ্যুৎ সংকট আবারও তীব্র হচ্ছে। একদিকে গরমের মধ্যে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে কারিগরি ত্রুটি ও জ্বালানি সংকটে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে পড়ায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে লোডশেডিং।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টার বিদ্যুৎ পরিস্থিতির প্রতিবেদনে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা দেখানো হয় ১৬ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে উৎপাদন ছিল ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট। ফলে ওই সময় ঘাটতি দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) জহুরুল ইসলাম জানান, হঠাৎ করে ভারতের আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। একই সময়ে দেশের আরএনপিএলের একটি ইউনিটও বন্ধ হয়। এতে নতুন করে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, আদানির বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিট দ্রুত মেরামতের চেষ্টা চলছে। এর পাশাপাশি আগের বিভিন্ন সমস্যাও রয়ে গেছে।

কমেছে কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক উৎপাদন

জাতীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত ১১টার দিকে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ ১ হাজার ৪৩০ মেগাওয়াট থেকে কমে ৭৫৮ মেগাওয়াটে নেমে যায়।

একই সময়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদনও কমেছে। আগের দিন প্রায় ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন হলেও তা নেমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৮৫৭ মেগাওয়াটে।

এদিকে গ্যাসভিত্তিক কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রও কারিগরি ত্রুটি ও গ্যাসের সংকটে বন্ধ রয়েছে। আশুগঞ্জের ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কেন্দ্র আগের দিন ৩১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেও পরে কারিগরি ত্রুটিতে সেটি বন্ধ হয়ে যায়।

গ্যাসের সংকটে শুধু ঢাকা অঞ্চলেরই অন্তত সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ অথবা কম সক্ষমতায় চলছে। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলেও একটি করে কেন্দ্র বন্ধ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

গ্রামাঞ্চলে ৭ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং

উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আবার বেড়েছে। শহরাঞ্চলের কিছু এলাকায় দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে কোথাও কোথাও ৭ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

এর আগে কয়েক সপ্তাহ কিছুটা স্বস্তি এলেও বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আবারও খারাপ হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়েও জ্বালানি ও গ্যাসের ঘাটতির কারণে জাতীয় গ্রিডে কয়েক হাজার মেগাওয়াটের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

সংকট কাটাতে নতুন বিদ্যুৎ যোগের উদ্যোগ

সরকার অবশ্য বিদ্যুৎ সংকট সামাল দিতে নতুন করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগ করার উদ্যোগ নিয়েছে। চলতি সপ্তাহে মেয়াদোত্তীর্ণ পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট এবং রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আরও ৬৬০ মেগাওয়াটসহ মোট ১ হাজার ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কয়েকটি কেন্দ্র চালু করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন্ধ হয়ে থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দ্রুত সচল করাও জরুরি।

দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি সংকট ও কেন্দ্র বন্ধ থাকার কারণে যখন চাহিদার তুলনায় কয়েক হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, তখন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও বাড়ছে। লোডশেডিং কমাতে এখন উৎপাদন ও জ্বালানি সরবরাহ দুদিকেই দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ