ইয়েমেনে হুথিদের সঙ্গে নতুন করে সামরিক সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে করা দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা চুক্তির প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্র বহাল রাখবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সোমবার ইউরোপ সফরে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা চুক্তি রয়েছে। আমরা সেটি মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ তবে চুক্তির আওতায় […]
ছবি: সংগৃহীত
ইয়েমেনে হুথিদের সঙ্গে নতুন করে সামরিক সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে করা দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা চুক্তির প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্র বহাল রাখবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
সোমবার ইউরোপ সফরে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা চুক্তি রয়েছে। আমরা সেটি মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ তবে চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
হুথিদের ধারাবাহিক হামলার প্রসঙ্গে রুবিও বলেন, নিজেদের রক্ষার অধিকার সৌদি আরবের রয়েছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের মিত্র বাহিনী আগের সংঘর্ষে হুথিদের দখলে চলে যাওয়া এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।
বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রুবিও বলেন, সৌদি ও ইয়েমেনি বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথের আশপাশে হুথিদের নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করছে। এ কারণে স্থানীয় বাহিনীর পাল্টা অভিযানকে ওয়াশিংটন প্রত্যাশিত পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে।
এর আগে সোমবার ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি রাজধানী সানা পুনর্দখলের জন্য সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন। ‘ভাই ও বন্ধুদের’ সহযোগিতায় হুথিদের কাছ থেকে রাজধানী পুনরুদ্ধার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে এই অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। ২০১৪ সাল থেকে সানা হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, তারা বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে গুরুত্বপূর্ণ ধুবাব জেলা এবং কয়েকটি কৌশলগত অবস্থান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
তবে হুথিদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে সরাসরি হামলায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি এখন পর্যন্ত প্রত্যাখ্যান করেছে ওয়াশিংটন। এর পরিবর্তে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
হুথিদের সঙ্গে নতুন করে সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। একই সময়ে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর পাল্টা অভিযান এবং বাব আল-মান্দেব ঘিরে সামরিক তৎপরতায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।