যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও কূটনীতিকদের লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করছে ইরান, এমন আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি একটি মেমোতে। এ বিষয়ে সতর্ক করে মার্কিন দূতাবাসগুলোর কর্মীদের দ্রুত অবহিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু, পরিকল্পনার ধরন কিংবা কোন কোন দেশে হামলা হতে পারে, সে বিষয়ে মেমোতে বিস্তারিত জানানো হয়নি। […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও কূটনীতিকদের লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করছে ইরান, এমন আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি একটি মেমোতে। এ বিষয়ে সতর্ক করে মার্কিন দূতাবাসগুলোর কর্মীদের দ্রুত অবহিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু, পরিকল্পনার ধরন কিংবা কোন কোন দেশে হামলা হতে পারে, সে বিষয়ে মেমোতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। সংবাদমাধ্যমটির হাতে আসা ২৩ অক্টোবরের এক পাতার মেমোটি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে পাঠানো হয়েছিল।
মেমোতে জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটন মার্কিন কর্মকর্তাদের হত্যার সম্ভাব্য পরিকল্পনা সম্পর্কে দূতাবাসের কর্মীদের দ্রুত সতর্ক করার পরামর্শ দিয়েছেন। এ-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে বলেও মেমোতে উল্লেখ রয়েছে।
ঝুঁকিতে থাকা মার্কিন কর্মীদের সতর্ক করতে গোয়েন্দা তথ্যের গোপনীয়তার মাত্রা কমিয়ে তা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর প্রস্তাবও দিয়েছেন ক্লেটন। তবে ইরানের কথিত পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে দূতাবাসের কর্মীসংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্তে এই গোয়েন্দা তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বাইরেও হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ওয়াশিংটন।
এর আগে চলতি সপ্তাহে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস এবং জেদ্দা ও দাহরানের কনস্যুলেট থেকে কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের একটি বড় অংশকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
এ ছাড়া শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সংযুক্ত আরব আমিরাত, লেবানন, কাতার ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলোর কর্মীসংখ্যা কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, হুথিদের সম্ভাব্য হামলা এবং ইরানের কথিত হামলার পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগের কারণে এসব দেশে শুধু জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মীদের রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার ফ্লোরিডায় এক সমাবেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনার কথা বলেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানে আবারও সীমিত পরিসরে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পরিচালনা করতে পারে। তবে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ইরান বুদ্ধিমানের মতো সিদ্ধান্ত নিলে আলোচনায় বসবে। তবে তেহরান শেষ পর্যন্ত সেই পথে এগোবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।